দেবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুরুত্বপূর্ণ ৮৮ পদই শূন্য

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা 
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ৮৮টি পদ শূন্য রয়েছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্কট, পরিচ্ছন্নতা ও ওষুধ সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত ৫ অক্টোবর প্রস্তুত করা জনবলসংক্রান্ত তালিকা অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও কর্মচারী মিলিয়ে ২০৮টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে শূন্য রয়েছে ৮৮টি পদ। 
তালিকা অনুযায়ী, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, সার্জারি, মেডিসিন, গাইনি ও প্রসূতি, অ্যানেসথেসিয়া, শিশু, অর্থোপেডিকস, কার্ডিওলজি, চক্ষু, নাক-কান-গলা, চর্ম ও যৌন এবং ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসক সঙ্কট রয়েছে। মেডিক্যাল অফিসার ও সহকারী সার্জনের ২১টি পদও শূন্য রয়েছে এ হাসপাতালে। এ ছাড়া ডেন্টাল সার্জন ও প্যাথলজিস্টের পদও খালি রয়েছে। 
স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের ১০টি, স্বাস্থ্য সহকারীর ৯টি এবং সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ছয়টি পদ শূন্য। পাশাপাশি অফিস সহায়কের চারটি, ওয়ার্ড বয়ের তিনটি, আয়ার দু’টি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চারটি পদসহ বিভিন্ন সহায়ক কর্মচারীর পদ খালি রয়েছে। 
জনবল সঙ্কটে রোগীদের চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের শূন্য পদ পূরণ ও সেবার মানোন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ চান স্থানীয়রা।
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু ইউসুফ মো: শাহেদুর রাফি বলেন, চিকিৎসক সঙ্কটের কারণে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ৩২ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ছয়জন। এর মধ্যে একজন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার। সীমিত জনবল নিয়েই রোগীদের যথাসম্ভব ভালো সেবা দেয়ার চেষ্টা চলছে। 
তিনি জানান, শূন্য পদের তালিকা পঞ্চগড় জেলার সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়েও অনুলিপি দেয়া হয়েছে। 
হাসপাতালটির শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।

Advertisement