
আতিকুর রহমান মানিক, ঈদগাঁও (কক্সবাজার)
সাগরে মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় বাজারে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কমেছে। তবে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার চিংড়ি ঘেরগুলোতে উৎপাদিত নানা প্রজাতির মাছ সেই সঙ্কট অনেকটাই সামাল দিচ্ছে। বাগদা চিংড়ির পাশাপাশি এসব ঘেরে উৎপাদিত লবণাক্ত পানির মাছ স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সরবরাহ করা হচ্ছে জেলার বাইরেও।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কক্সবাজারে প্রায় ৪৪ হাজার হেক্টর উপকূলীয় জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ হচ্ছে। জেলায় ঘেরের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। গত মে মাসে শুরু হওয়া চাষ মৌসুমে চিংড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছও উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে কয়েক মাস ধরে বাজারে এসব মাছের সরবরাহ বেড়েছে।
বাগদা চিংড়ির সাথে ঘেরগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে বাঠা বা পারশে, গুইল্যা বা টেংরা, দাঁতিনা, কোরাল, তাইল্লা, কেঁচকি, লইল্যা ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। কোনো কোনো ঘেরে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কার্পজাতীয় মাছও চাষ করা হচ্ছে। মৃদু লবণাক্ত পানিতে এসব মিঠাপানির মাছও বেড়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
জেলার ঈদগাঁও, পোকখালী, ইসলামপুর, ইসলামাবাদ ও জালালাবাদসহ বিভিন্ন এলাকার হাটবাজারে এখন ঘেরের মাছের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য। চকরিয়ার চোয়ারফাঁড়ি পাইকারি মাছের বাজারেও এসব মাছ বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী মুসলেম মৌলভী বলেন, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঘেরে উৎপাদিত মাছ এখন জেলার বাইরেও পাঠানো হচ্ছে।
বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি তাইল্লা মাছ ৩৫০ টাকা, বাঠা ৬০০ টাকা, গুইল্যা ৫০০ টাকা, দাঁতিনা ৩৫০ টাকা এবং কোরাল আকারভেদে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কেঁচকি ১০০-১৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা এবং বাগদা চিংড়ি ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কক্সবাজারের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী নূরুল আমিন বলেন, সাগরে মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যাচ্ছে কম। এ অবস্থায় ঘেরের মাছ দিয়েই গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।
ঈদগাঁওর স্কুলশিক্ষক আবদুল্লাহ মনজুরের মতে, ঘেরের মাছের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় সামুদ্রিক মাছের সঙ্কটের প্রভাব তুলনামূলক কম পড়ছে। মাছ ব্যবসায়ী কাউছার জানান, ঘের থেকে আহরণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাছ বাজারে আনা হচ্ছে। এ কারণে ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, জেলার প্রায় ১৫ হাজার ঘেরের মধ্যে ১২টি সেমি-ইনটেনসিভ বা আধা নিবিড় এবং একটি সুপার-ইনটেনসিভ পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে।
সাগরে মাছ আহরণ বন্ধের সময়ে ঘেরের মাছের এই সরবরাহ স্থানীয় বাজারে বিকল্প উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখছে। একইসাথে উপকূলীয় এলাকায় বহুমুখী মাছ উৎপাদন স্থানীয় মৎস্য অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








