
বিশেষ সংবাদদাতা
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের নীতি জোরদার করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার সাথে প্রস্তাবিত এফটিএ আলোচনা আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশীয় বাজারে ডালের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত এক বৈঠকের সূচনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আনুষ্ঠানিক চুক্তির লক্ষ্য নিয়ে গত মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রথম দফার দ্বিপক্ষীয় এফটিএ আলোচনা শুরু হয়েছে। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
কেন জরুরি এফটিএ : পেছনের প্রেক্ষাপট ও এলডিসি উত্তরণ
বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘ ঘোষিত এলডিসি তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে বের হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে এতদিন পাওয়া শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত রফতানি সুবিধা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কিছু বাণিজ্যিক অংশীদার অন্তর্বর্তীকালীন কিছু সময়ের জন্য সুবিধা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিলেও তা বিভিন্ন কঠোর শর্তসাপেক্ষ।
ফলে এলডিসি-উত্তর যুগে বিদেশী বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সাথে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) সম্পাদন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এফটিএ কার্যকর হলে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলোতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি নতুন বাজার সৃষ্টি ও বৈচিত্র্যময় পণ্য রফতানির পথ সুগম হবে।
বাণিজ্য ভারসাম্য ও দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ সম্ভাবনা
মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক বর্তমানে ব্যাপকভাবে মালয়েশিয়ার অনুকূলে রয়েছে। বাংলাদেশ প্রধানত ভোজ্যতেল (বিশেষ করে পাম তেল) আমদানির জন্য মালয়েশিয়ার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এফটিএ স্বাক্ষরিত হলে উভয় দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য বৈষম্য কমে আসবে। একদিকে যেমন মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশী পোশাক, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে, অন্য দিকে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট করার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে।
বৈশ্বিক বাণিজ্য কৌশল ও বহুমাত্রিক আলোচনা
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সরকার একাধিক দেশ ও অর্থনৈতিক জোটের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে:
সম্পাদিত সেপা : জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
চলমান এফটিএ আলোচনা : সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও সিঙ্গাপুরের সাথে এফটিএ আলোচনা দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ আলোচনার পরিকল্পনা : ইন্দোনেশিয়া, হংকং, ওমান ও নিউজিল্যান্ডের সাথে শিগগিরই প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন : বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রফতানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথেও মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আলোচনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি চলছে।
দ্বিপক্ষীয় এসব অর্থনৈতিক চুক্তি সফলভাবে শেষ করা সম্ভব হলে তা এলডিসি-উত্তর চ্যালেঞ্জ সামলে বাংলাদেশের সার্বিক রফতানি আয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








