
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে নতুন সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকালে বাণিজ্যমেলার নির্মাণাধীন দু’টি ফটক ও বিভিন্ন স্টল ভাঙচুর করেছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে আয়োজক কমিটি মাঠ থেকে মেলা ও স্টলের যাবতীয় স্থাপনা সরিয়ে নিতে শুরু করে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বেলা ১১টার দিকে শেকৃবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকাস্ট্যান্ডের সামনে সমবেত হন। সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় বিভিন্ন সেøাগান দিয়ে শিক্ষার্থীরা মাঠ পুনরুদ্ধারের জোরালো দাবি জানান। একপর্যায়ে শেকৃবির ৭০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থী মাঠে প্রবেশ করে সেখানে মাসব্যাপী আয়োজিত ‘এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা’ এবং এক সপ্তাহব্যাপী ‘যুবমেলা’র জন্য নির্মিত প্রধান ফটক, টিনের বেড়া ও বিভিন্ন কাঠের স্টলের কাঠামো ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করতে পারেনি।
মেলার স্টল নির্মাণের কর্মীরা অভিযোগ করেন, সরকারি অনুমতি নিয়েই তারা মাঠে স্টল নির্মাণ করছিলেন। হঠাৎ শতাধিক শিক্ষার্থী এসে ভাঙচুর করায় তাদের কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা কাজের যন্ত্রপাতিও নিয়ে গেছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠটি মূলত শেকৃবির পুরনো গবেষণা মাঠ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার অ্যাকাডেমিক প্রয়োজনে মাঠটি জরুরি। সেখানে কোনো বাণিজ্যিক মেলা বা সচিবালয় নির্মাণ করতে দেয়া হবে না। মেলা স্থানান্তরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আয়োজকদের আগে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা মাঠে নেমেছেন। নিজেদের গবেষণার মাঠ ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এর আগে মঙ্গলবার মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের জন্য মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করতে গেলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখান থেকে মাটি পরীক্ষার যন্ত্রাংশ ও দু’টি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। একই সাথে মাঠ ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে তারা একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করেন এবং ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেন।
ভাঙচুর ও বিক্ষোভের মুখে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আয়োজক কমিটির প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের সাথে কোনো ধরনের বিরোধে না গিয়ে তারা দ্রুত মাঠ থেকে গেট ও অন্যান্য স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছেন এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছেন।
ভাঙচুরের বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক তাজুল ইসলাম জানান, পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছেন। শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে উদ্যোগ নেয়া হবে এবং ক্যাম্পাসে বা বাইরে যেন আবার কোনো অনাকাক্সিক্ষত ভাঙচুরের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








