রাষ্ট্রপতির সাথে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ও ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ : পিআইডি।

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিনিধিদল গতকাল বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন অষ্টম সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে মৌখিক সম্মতি দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং বেকারত্ব মোকাবেলায় দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বমানের, কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে উচ্চশিক্ষাসহ সব পর্যায়ে কর্মমুখী, কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়া অপরিহার্য। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মো: ইসমাইল জাবিউল্লাহ; ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাফায়েত মোহাম্মদ রাজু, উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী, ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম হায়দার এবং বোর্ড সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের চৌধুরী।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তারা জানান, জেসাপ আন্তর্জাতিক মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ২০২৬ সালসহ চারবার জাতীয়ভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
প্রতিনিধিদল উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং একাডেমিক উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ কোটি টাকারও বেশি বৃত্তি প্রদান করেছে এবং বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ছয় কোটি টাকার বৃত্তি প্রদান করছে। এসব বৃত্তি একাডেমিক উৎকর্ষতাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবন জোরদারের আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেসসচিব উপস্থিত ছিলেন।