পবিপ্রবির সাবেক ভিসির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

Advertisement

নিজের ছেলেসহ অতিরিক্ত ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) সাবেক ভিসি স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সরকারের প্রায় ৮১ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে করা এই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসুকেও আসামি করা হয়েছে।
গত রোববার দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও সন্তোষ কুমার বসু ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ছাড়াই বিজ্ঞাপিত পদের অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেন। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে তারা বাছাই বোর্ডের সদস্যদের অবৈধভাবে প্রভাবিত করেন এবং রিজেন্ট বোর্ডের রেজুলেশন তৈরি করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালের তিনটি পৃথক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পদের সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। এর মধ্যে সেকশন অফিসার পদে তিনজনের বিপরীতে নেয়া হয় ছয়জন, যার মধ্যে স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের ছেলে শাওন চন্দ্র তনুও রয়েছেন। এ ছাড়া বুক বাইন্ডার, কিচেন হেলপার, অ্যাটেনডেন্ট, হেলপার, মালি, অফিস সহায়ক ও ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পদে চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত ১০ জন এবং প্রভাষক পদে দু’জন অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া এসব ব্যক্তিকে বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮০ লাখ ৭৫ হাজার ১৩১ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরাধমূলক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। আর সন্তোষ কুমার বসুকে পরবর্তীতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
মামলার বাদি ও দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস বলেন, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের বিষয়টি অনুসন্ধানে প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক ভিসি ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
এদিকে মামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সন্তোষ কুমার বসুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।