
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাকৃতিক জলাশয়ে দেশী মাছের উৎপাদন বাড়ানো, প্রজননক্ষেত্র রক্ষা এবং হারিয়ে যাওয়া প্রজাতি ফিরিয়ে আনতে হাওর, বাওড়, নদীনালা ও সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জলবায়ু পরিবর্তন, জলাশয় দূষণ ও মানুষের অসচেতনতার কারণে প্রাকৃতিক মাছের প্রজননক্ষেত্র সঙ্কটের মুখে পড়ায় এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। একইসাথে মাছের জাত উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ, মানসম্মত পোনা উৎপাদন ও নিরাপদ মাছ চাষে গবেষণা জোরদারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) আয়োজনে ‘বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা (২০২৫-২৬) ও পরিকল্পনা প্রণয়ন (২০২৬-২৭)’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য উঠে আসে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় চলতি বছর থেকেই এ সঙ্কট মোকাবেলায় বড় ধরনের বাজেট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখার পাশাপাশি প্রাকৃতিক উৎস থেকে মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং রফতানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায় সরকার। তবে রফতানির ক্ষেত্রে গুণগত মানের সাথে কোনো আপস করা হবে না।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে ভালো গবেষণার ফলেই বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। চাষের মাছের উৎপাদন, গুণগত মান ও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের অসচেতনতার কারণে প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গবেষণার পাশাপাশি প্রাকৃতিক জলাশয় ও মাছের আবাসস্থল সংরক্ষণ করতে হবে।
গবেষক ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশী মাছের প্রজনন, জাত উন্নয়ন এবং হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রজাতি পুনরুদ্ধারে গবেষণা জোরদার করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা, মাছের রোগ প্রতিরোধ এবং মানসম্মত পোনা উৎপাদন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একইসাথে উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।
ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধে শুধু আইন প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। মাছের খাদ্যে মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার থেকে বিরত থাকার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, নিরাপদ মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং উৎপাদিত মাছের গুণগত মান বজায় রাখা জরুরি।
পানিদূষণ রোধ ও জলাশয় সংরক্ষণ জরুরি
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এর গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মাছের স্বাদ ও গুণগত মান অনেকাংশে পানির গুণগত মানের ওপর নির্ভরশীল। তাই মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগের পাশাপাশি জলাশয়ের দূষণ রোধ এবং মাছের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, নদী ও খাল খননের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা কমানো গেলে মাছের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. মো: লতিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আরো বক্তব্য দেন- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো: মীর হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: শাহজামান খান এবং বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: আবদুছ ছালাম। স্বাগত বক্তব্য দেন বিএফআরআইয়ের পরিচালক ড. মো: আমিরুল ইসলাম। কর্মশালায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএফআরআইয়ের বিজ্ঞানী, মৎস্য অধিদফতরের কর্মকর্তা ও জেলে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








