উচ্চ বেতনের প্রলোভনে পাহাড়ে ফাঁদ : টার্গেট চীনে নারী পাচার

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

পার্বত্য অঞ্চলের দুই তরুণী স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে এক স্থানীয় দালালের মাধ্যমে খবর পান ‘চীনে আকর্ষণীয় চাকরির। মাস শেষে মোটা অঙ্কের বেতন, বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া আর সহজে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তাব। পরিবারের দারিদ্র্য ঘুচানোর আশায় সরল বিশ্বাসে সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ঢাকায় আসেন তারা। কিন্তু রাজধানীতে পৌঁছানোর পরই ভেঙে যায় সেই স্বপ্ন। রাজধানীর উত্তরার জমজম টাওয়ার এলাকা ও ভাটারার একটি গোপন আস্তানায় কোনো বৈধ কাগজপত্র বা পাসপোর্ট ছাড়াই জোরপূর্বক ঘরে বন্দী করে রাখা হয় তাদেরসহ একাধিক নারীকে। সেখানে শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, একই সাথে চাপ দেয়া হতে থাকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার জন্য। 
এটি কেবল একজন নারীর কোনো বিচ্ছিন্ন গল্প নয়; বরং পাহাড়ি অঞ্চলকে লক্ষ্য বানিয়ে গড়ে ওঠা একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের চিত্র। গতকাল বুধবার রাজধানীর কাওরানবাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এসআরবি-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল নেয়ামুল হালিম খান।
লে. কর্নেল নেয়ামুল হালিম খান জানান, সমতলের তুলনায় পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ স্বভাবজাতভাবেই অত্যন্ত সরল ও সহজ-বিশ্বাসপ্রবণ। সেখানে কাজের সুযোগ সীমিত থাকায় পাহাড়ি তরুণী ও নারীদের উচ্চ বেতন, আকর্ষণীয় চাকরি এবং সহজে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে খুব সহজেই বিভ্রান্ত ও প্রলুব্ধ করা যায়। স্থানীয় দালাল চক্র এই সরলতার সুযোগ নিয়ে পাহাড় থেকে নারীদের সংগ্রহ করে ঢাকার পাচারকারীদের হাতে তুলে দিচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় দুই নারীকে প্রথম দফায় উত্তরার জমজম টাওয়ার এলাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারার একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে আরো ১০ জন নারীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়া নারী ভিকটিমের জবানবন্দীতে উঠে আসে চরম নির্যাতনের চিত্র। তাদের কোনো প্রকার বৈধ পাসপোর্ট বা ভ্রমণের কাগজপত্র ছাড়াই বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল এবং প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চীনে নারী পাচারের এই চক্রটিতে কেবল দেশীয় দালালরাই যুক্ত নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে বিদেশী নাগরিকদের প্রত্যক্ষ হাত। বাংলাদেশে অবস্থানরত অনেক চীনা নাগরিক বৈধ কাগজপত্র ও ওয়ার্ক পারমিট নিয়েই দেশে প্রবেশ করে। কিন্তু পরে এ দেশের কিছু অতিলোভী ও স্বার্থান্বেষী স্থানীয় ব্যক্তির সহযোগিতায় তারা অপরাধের চক্র গড়ে তোলে। ছয় মাস আগেও একই ধরনের একটি চক্রের জিম্মিদশা থেকে দুই ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই সময় এক চীনা নাগরিকসহ জড়িতদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। 
এ দিকে বুধবার ভোরে কক্সবাজার থেকে ইয়াবার একটি বিশাল চালান ‘রয়েলস ট্র্যাভেল’ নামক একটি নৈশকোচে করে ঢাকার গাবতলীর উদ্দেশে আনার সময় আটক করে এসআরবি-১। বাসে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবাবড়ির চালানের সাথে যুক্ত দু’জন মাদককারবারিকে আটক করা হয়। এই চালানের সাথে মোট ছয়জনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে দু’জনকে আটক করা হয়েছে। 
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর রাতে বিমানবন্দর এলাকা থেকে মিনি কাভার্ডভ্যানকে আটক করে গাড়ি থেকে ৪৩০ লিটার বিদেশী মদ ও ১৫৫ দশমিক ৭৬ লিটার বিয়ার উদ্ধার করা হয়। এ সময় গাড়ির চালক ও মাদককারবারি একজনকে গ্রেফতার করা হয়।