উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে চীনে বৈশ্বিক সুশাসন সম্মেলন

সিনহুয়া
বৈশ্বিক সুশাসন আরো উন্নত করতে বিভিন্ন পক্ষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী প্রথম বৈশ্বিক সুশাসন সম্মেলন করেছে চীন। দেশটি বৈশ্বিক সুশাসন উদ্যোগ (জিজিআই) প্রস্তাব করার এক বছর পর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো।
চীনের উত্তরাঞ্চলীয় হেবেই প্রদেশের শিওংআন নিউ এরিয়ায় শুক্রবার ‘২০২৬ বৈশ্বিক সুশাসন ফোরাম (শিওংআন)’-এর উদ্বোধন করা হয়। চায়নিজ পিপলস ইনস্টিটিউট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স আয়োজিত এ ফোরামের প্রতিপাদ্য- ‘আস্থা ও সহযোগিতা পুনর্গঠন : পরিবর্তনশীল বিশ্বে বৈশ্বিক সুশাসনের সংস্কার ও উন্নয়ন’।
ফোরামে পাঠানো এক বার্তায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, বিশ্ব এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি- এমন দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শান্তি, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সুশাসনের ঘাটতি কমার পরিবর্তে বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘আরো ন্যায়সঙ্গত ও ন্যায্য বৈশ্বিক সুশাসনব্যবস্থা এবং একটি উন্নত বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমি বৈশ্বিক সুশাসন উদ্যোগ (জিজিআই) প্রস্তাব করেছি।’
শি বলেন, ব্যাপক পরামর্শ, যৌথ অবদান ও অভিন্ন সুফলের ভিত্তিতে বৈশ্বিক সুশাসনের ধারণা এগিয়ে নিতে চীন সব পক্ষের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। আস্থা গড়ে তুলে সম্মিলিত শক্তি বাড়ানো এবং সহযোগিতার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, অস্থিরতা ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়া বিশ্বে আরো বেশি নিশ্চয়তা ও ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করতে জিজিআই বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। একই সাথে মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।
তুরস্কের আঙ্কারাভিত্তিক সেন্টার ফর এশিয়া-প্যাসিফিক স্টাডিজের পরিচালক সেলচুক চোলাকোগলু বলেন, ফোরামটি বৈশ্বিক সুশাসন বিষয়ে চীনের দৃষ্টিভঙ্গির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- সব দেশকে একসাথে আলোচনা, বিশ্ব গঠন এবং সেই অর্জনের সুফল ভাগ করে নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো।’ জাতিসঙ্ঘসহ ৯০টিরও বেশি দেশ এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রায় ৪০০ প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছেন।

Advertisement