দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন নিকো পাজ
আর্জেন্টিনার নতুন সেনসেশন কোমোতে খেলা নিকো পাজ : ইন্টারনেট।

 ক্রীড়া ডেস্ক
কেন তাকে নতুন মেসি বলা হয় সেটার জানান আবার দিলেন নিকো পাজ। গোলের পর গোল আর অ্যাসিস্ট চালিয়ে যাচ্ছেন এই আর্জেন্টাইন। ২১ অক্টোবর চ্যাম্পিয়নস লিগে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে উড়িয়ে দিয়েছে ইতালির ক্লাব কোমো। আর দুর্দান্ত এই জয়ের নায়ক আর্জেন্টাইন তারকা মিডফিল্ডার নিকো পাজ। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের মাঠে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ধসিয়ে দিয়েছে কোমো। দলের হয়ে দুর্দান্ত জোড়া গোলের সাথে সতীর্থকে দিয়ে আরো একটি গোল করিয়েছেন প্লে-মেকার নিকো পাজ। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে নিজেদের প্রথম সফরে নেমেই একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছে ‘লা রিয়ানি’ খ্যাত ক্লাব কোমো। আর তাদের এই মিশনে সফল অস্ত্র নিকো পাজ।  চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আগের দুই ম্যাচে আরবি লাইপজিগকে ঘরের মাঠে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয়ার পর অবশ্য ফেইনুর্দের মাঠে গিয়ে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল তারা। তবে এবার আবারো বড় জয়ে ঘুরে দাঁড়ালো ক্লাবটি। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে পাজ সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ইতালিয়ান লিগের যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন। আটটি ম্যাচে তার অবদান ৯টি (চারটি গোল, পাঁচটি অ্যাসিস্ট)।
পাজ ছিলেন কোমোর প্রাণভোমরা। ২২ বছর ৪৩ দিন বয়সে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে কোনো ইংলিশ দলের বিরুদ্ধে তিন বা এর বেশি গোলে অবদান রাখা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হলেন তিনি। তার সামনে রয়েছেন কেবল পোর্তোর আন্দ্রে সিলভা, যিনি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে লেস্টার সিটির বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছিলেন (২১ বছর ৩১ দিন বয়সে)।
২০০৯ সালের এপ্রিলে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে লিওনেল মেসির (২১ বছর ২৮৮ দিন) পর পাজ-ই চ্যাম্পিয়নস লিগের কোনো ম্যাচে তিনটি গোলে অবদান রাখা কনিষ্ঠতম আর্জেন্টাইন।
স্কাই স্পোর্ট ইতালিকে পাজ বলেন, ‘এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সুন্দর একটি ম্যাচ। আমি এই রাতের কথা কখনো ভুলব না।’ 
 আর্জেন্টিনার বাবা আর স্প্যানিশ মায়ের ঘরে জন্ম নিকো পাজের। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপে বড় হয়েছেন এই সোনালি চুলের নিকো পাজ। ক্যারিয়ারের শুরুতে ছিলেন ডিফেন্ডার। এরপর ফরোয়ার্ড এবং পজিশনে। আর এখন প্লে-মেকার। ক্যানারি দ্বীপের সান জুয়ান ও টেনারিফের ক্লাবে ফুটবলে হাতেখড়ি। এরপর ২০১৬ সালে রিয়াল মাদ্রিদের লা ফ্যাব্রিসা অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হন। এরপর রিয়াল মাদ্রিদের ‘বি’ টিমে খেলেন। মূল দলে খেলা হয়নি। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিনি তিনটি ম্যাচ খেলেছেন। তিন ম্যাচে দুই গোল। আর অ্যাসিস্ট তিনটি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বশেষ ম্যাচে তার জোড়া গোল ও অ্যাসিস্ট। ফলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বধের পুরস্কারস্বরূপ পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কারও। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও গোল করেছেন ১৪ ম্যাচে চার গোল। এবারের বিশ্বকাপে খেলেছেন দুই ম্যাচ। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির বদলি হিসেবে। আর জর্দানের বিপক্ষে মূল একাদশে।

Advertisement