
নিজস্ব প্রতিবেদক
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি আদায়ে আগামী ৩১ অক্টোবর কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে জোটটি।
গতকাল সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন কমিটির সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সঙ্কট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে তারা আন্দোলন ও লংমার্চ করছেন।
দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দুর্নীতির পথগুলো অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনসহ গুম-খুন প্রতিরোধে স্বাধীন কমিশন গঠনের কথা তারা বলেছেন।
প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রশাসনের সর্বত্র নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। পিএসসির সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির পরিবর্তে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় শামসুল আলমকে নিয়োগ দেয়াকে তিনি দলীয়করণের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে ১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে দাবি করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মতো কারচুপির প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে সরকারকে মাগুরার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে হবে। মাগুরার নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার পতনের আন্দোলন হয়েছিল, যা পরে চূড়ান্ত রূপ নেয়।
মাগুরার মতো নির্বাচনের কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
৩১ অক্টোবরের লংমার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। লংমার্চ ঘিরে কোনো উসকানি বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকলে আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রশাসনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে তারা সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। প্রশাসন জনগণের হয়ে কাজ করবে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
লংমার্চের কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।
সকাল ৮টায় প্রায় এক হাজার গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মাওয়া সড়ক ও পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাটের ফকিরহাট ও রূপসা সেতু হয়ে খুলনায় পৌঁছাবে বহর। পরে যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের বহর। এতে গণমাধ্যমকর্মী, চিকিৎসক, শিল্পী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যদের অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।
কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায়, বেলা ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে, বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে এবং দুপুর ২টায় ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে পথসভা হবে। এ ছাড়া বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোরের মুড়লীর মোড় এবং বিকেল ৫টায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলের নেতারা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








