দেশজুড়ে পর্যটকদের ঢল

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে দেশজুড়ে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। গত ২০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ ছুটির কারণে দেশের প্রধান প্রধান পর্যটন স্পটগুলোর হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো এখন লোকারণ্য। এতে চার মাসের দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে আবার প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে দেশের পর্যটন খাত।
পর্যটকদের এই বিশাল সমাগমকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে টুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসন তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। সৈকত ও পাহাড়ি এলাকায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া বা হয়রানি রোধে নিয়মিত তদারকি ও পুলিশি বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের ঢল নেমেছে । 
সাধারণত নভেম্বর থেকে কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও এবার দুর্গাপূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। সমুদ্রের ঢেউ, সৈকতের মনোরম পরিবেশ ও অনুকূল আবহাওয়া উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন পর্যটকেরা। কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠছেন, কেউ বালুচরে হাঁটছেন, আবার কেউ প্রিয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করছেন। ঘোড়ায় চড়া, বিচবাইক ও জেটস্কিতে চড়াসহ নানা আয়োজনে মুখর হয়ে উঠেছে সৈকত এলাকা। 
এ দিকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সৈকতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। লাইফগার্ড ও নিরাপত্তাকর্মীরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন। বিশেষ করে সাগরে গোসলের সময় পর্যটকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পর্যটকদের সমুদ্রস্নান নিরাপদ করতে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করবেন সি-সেইফ লাইফগার্ডের সদস্যরা। সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি ঝরনা, দরিয়ানগর, ইনানী ও পাটুয়ারটেকসহ জেলার অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রেও পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে। 
পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে খাগড়াছড়িতে ভিড় করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকেরা। সবুজ পাহাড়, নীল আকাশ আর ঝরনার টানে মুখর হয়ে উঠেছে জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো। সাম্প্রতিক অবরোধ ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে পর্যটকের উপস্থিতি কমে গেলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আবারও ফিরেছে পর্যটকদের আনাগোনা। এতে স্থানীয় পরিবহন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে স্বস্তি।
আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, রিছাং ঝরনা ও জেলা পরিষদ পার্কসহ জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে এখন পর্যটকদের ভিড়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে সময় কাটাচ্ছেন তারা। এর আগে সাজেককেন্দ্রিক অবরোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে খাগড়াছড়িতে পর্যটকের সংখ্যা সাময়িকভাবে কমে যায়। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আবারো পর্যটকেরা আসতে শুরু করেছেন।
বহুল প্রতীক্ষিত পর্যটন ‘বিচ কার্নিভাল’কে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। রাত পোহালেই শুরু হতে যাওয়া বিচ কার্নিভাল ঘিরে পুরো এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন ও প্রিয়জনদের নিয়ে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসছেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের এই অপরূপ লীলাভূমিতে।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ জানান, কুয়াকাটার ৩০০টিরও বেশি আবাসিক হোটেলে প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক থাকার সক্ষমতা থাকলেও আজ সেখানে লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। অনেক ভ্রমণার্থী সারাদিন কুয়াকাটার সৌন্দর্য উপভোগ করে রাতে ফিরে যাচ্ছেন। তবে আবাসিক হোটেলগুলোর বুকিং নিয়ে দেখা গেছে মিশ্র চিত্র। কিছু হোটেলে শতভাগ কক্ষ বুকিং থাকলেও কোনো কোনো হোটেলে আগামী দিনগুলোতে বুকিং কিছুটা কম। 
অন্য দিকে পর্যটকের ঢলে উপচে পড়ছে সিলেট। নগরীর চা বাগান থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে এখন দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি। পর্যটকদের চাপে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের বেশির ভাগ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। ফলে শেষ মুহূর্তে সিলেটে আসা অনেক পর্যটক পড়েছেন আবাসন সঙ্কটে। হোটেল-রিসোর্টে রুম খালি না পেয়ে কেউ স্বজনের বাসায় উঠছেন, আবার কেউ থাকার জায়গা না পেয়ে হজরত শাহজালাল রহ:-এর মাজারে আশ্রয় খুঁজছেন।
নগরীর মালনীছড়া, লাক্কাতুরা ও তারাপুর চা বাগানসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ঢল নেমেছে। চা-গাছের সারি, সবুজে ঘেরা টিলা ও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন হাজারো দর্শনার্থী। ছবি ও সেলফি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
এ দিকে পর্যটকদের বাড়তি চাপকে কেন্দ্র করে প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের ভাড়া বাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে আবাসন সঙ্কট, অন্য দিকে বাড়তি যাতায়াত খরচের চাপে বিপাকে পড়েছেন অনেক পর্যটক। বিশেষ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের ভোগান্তি বেড়েছে।
টানা ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে। পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক ও নীলগিরিসহ জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলো। বাড়তি চাপের কারণে হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় সব কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। অন্য দিকে পর্যাপ্ত যানবাহন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন অনেক পর্যটক।