৮ কোটি টাকার শান্তিনিবাসে কেউ পায়নি শান্তি!
৮ কোটি টাকার শান্তিনিবাসে কেউ পায়নি শান্তি!।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

Advertisement

লালমনিরহাটে আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রবীণ আবাসন কেন্দ্র ‘শান্তিনিবাস’ নির্মাণের তিন বছরেও চালু হয়নি। ফলে শান্তি মেলেনি অসহায় প্রবীণদের। আধুনিক তিন তলা ভবনটি এখন তালাবদ্ধ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে আছে।
জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক পরিচালিত লালমনিরহাট শহরের কলেজ রোডের পাশে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) চত্বরে ‘শান্তিনিবাস’ নির্মাণ করা হয়। আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনতলা শান্তিনিবাসের সবক’টি কক্ষ বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। ভেতরে কোনো প্রশাসনিক বা সেবা কার্যক্রম নেই। দীর্ঘদিন বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়া হয়েছে। লিফট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তির মেয়াদও শেষ। আধুনিক অবকাঠামো ও সব সুবিধা থাকা সত্ত্বেও জনবল সঙ্কট ও প্রশাসনিক জটিলতায় ভবনটি অব্যবহৃত পড়ে আছে। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে, সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রবীণরা।
সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শান্তিনিবাস ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট গণপূর্ত অধিদফতর লালমনিরহাট সমাজসেবা অধিদফতরের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করে। যার নির্মাণ ব্যয় আট কোটি এক লাখ ৪১ হাজার ৩২৯ টাকা। ৩০ শতক জমির ওপর তিনতলা ভবনটি নির্মিত। এখানে ৬০ বছরের বেশি বয়সী ২৫ জন অসহায় ও অবহেলিত প্রবীণের নিরাপদ আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নত জীবনমানের ব্যবস্থা থাকার কথা ছিল।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলার একমাত্র সরকারি তিন তলা শান্তিনিবাস। সরকারি টাকায় তৈরি ভবন ফেলে রাখায় সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ না হলে অবকাঠামোগত ক্ষতি হবে। চালু হলে অনেক অসহায় প্রবীণের ঠাঁই মিলতো।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল হক বলেন, এটি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। অবকাঠামোর কাজ শেষ। মূলত জনবল নিয়োগ না হওয়ায় চালু করা যায়নি। 
সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জনবলের অনুমোদন পাওয়া গেছে। খুব শীঘ্রই শান্তিনিবাস চালু করা হবে।