
মানবিকতার কোনো সীমারেখা নেই। ধর্ম নেই, বর্ণ নেই, গোত্র নেই। মানবিকতার জন্য লাগে না কোনো পাসপোর্ট, লাগে না কোনো ভিসা। শুধু লাগে মমত্ব ও ভালোবাসা। আজকের এই আয়োজন কেবল একজন প্রান্তিক কৃষক তোফাজ্জল হোসেনকে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান নয়। এটি একটু সহানুভূতি ও ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত। ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষকের জমানো অর্থ ইঁদুর ও উইপোকায় নষ্ট করে ফেলেছে জেনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশীরা তার জমানো দুই লাখ টাকা প্রেরণ করে দেশের মানুষের প্রতি মানুষের মানবিকতার নজির স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেশপ্রেম আবারো জোরালো ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের জীবনমান ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার কতটা নিশ্চিত হয়েছে, তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি বর্তমান সরকার অসহায়, দরিদ্র, কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গতকাল ঢাকার কাওরানবাজারের ওয়াসা ভবনে দরিদ্র কৃষক তোফাজ্জল হোসেনকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রেরিত দুই লাখ টাকা অর্থসহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন, কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের বড় মেয়ে মোসাম্মৎ মোর্সেদা, গাইবান্ধার স্থানীয় সাংবাদিক ইদ্রিসউজ্জামান মোনা প্রমুখ।
সাংবাদিক সালেহ উদ্দিন বলেন, কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের নষ্ট হয়ে যাওয়া দুই লাখ টাকা শুধু অর্থ নয়; এটি তার ঘাম, স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার প্রতীক। একজন প্রান্তিক কৃষকের সারা জীবনের পরিশ্রমের সঞ্চয় নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করে। এই মানবিক উদ্যোগের সাথে দেশে-বিদেশে যারা যুক্ত হয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। মানুষের বিপদে মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছে- এটি আমাদের সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। মানবিকতার এই ধরনের বার্তা ছড়িয়ে দেয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। তবে আমাদের সমাজে নানা ধরনের ‘উইপোকা’ বাস করে, যারা মানুষের স্বপ্নকে ধ্বংস করতে চায়। তবে এদেরকে দমন করতে হবে।
প্রসঙ্গত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ধুমাইটারি গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন একজন গরিব অসহায় কৃষক। তার কোনো ছেলে নেই, তিন মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। মেয়েদের অনেক কষ্ট করে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। তোফাজ্জল হোসেন আগে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বয়সের ভারে রিকশা চালাতে না পারায় গ্রামে ফিরে এসে কয়েক বছর আগে থেকেই অন্যের দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করতেন। স্ত্রী ফাতেমা বেগম এবং তোফাজ্জল হোসেন এই দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে কোনো রকম সংসার চালাতেন। ৭২ বছর বয়সী গরিব এই কৃষকের আলমারিতে জমানো দুই লাখ টাকা উইপোকা ও ইঁদুর কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে। টুকরো টাকাগুলোকে সামনে নিয়ে কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের আর্তনাদ সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর প্রবাসীরা তার সাহায্য এ গিয়ে এলেন। বিজ্ঞপ্তি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








