ধানের দাম কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষক

আ ফ ম নুরুল কাদের কুষ্টিয়া

Advertisement

মাঠজুড়ে সোনালি ধান, কৃষকের মুখে হাসি, ঘরে ঘরে নবান্নের প্রস্তুতি। নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে গ্রামবাংলার চিরচেনা পরিবেশে ফিরেছে উৎসবের আমেজ। কুষ্টিয়ায় আগাম আমন ধান কাটা শুরু হওয়ায় কৃষক পরিবারগুলোতে বইছে আনন্দ। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে এবার ফলন ভালো হওয়ার আশা করছেন চাষিরা। কিন্তু এই আনন্দের আড়ালেই রয়েছে সারসঙ্কট, বাড়তি দামে সার কেনা, সরকারি প্রণোদনা না পাওয়া এবং উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে নানা শঙ্কা।
গত এক সপ্তাহ ধরে কুষ্টিয়া সদর ও কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে আগাম আমন ধান কাটা। সদর উপজেলার জিয়ারখি, কাঞ্চনপুর, বরিয়ার টাকিমারা, আলামপুর, ও মধুপুর ও কুমারখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠে মাঠে চলছে ধান কাটার ব্যস্ততা।
এ দিকে নতুন ধান বাজারে আসতে শুরু করায় দাম নিয়ে এখনো নিশ্চিত ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় কৃষকদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, জাত ও মানভেদে প্রতি মণ ধান প্রায় এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সার, শ্রমিক, জমি প্রস্তুত, মাড়াই ও পরিবহনসহ সব খরচ হিসাব করে এই দামে কতটা লাভ থাকবে, তা নিয়ে চিন্তিত তারা।
টাকিমারার কৃষি উদ্যোক্তা কারিমুল হক জানান, ধানের দাম বর্তমান কম। তবে ধানের দাম বৃদ্ধি না হলে কৃষকেরা ক্ষতি হবে। এবার ধানের ফলন অনেক ভালো মনে হচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্তে অনেক এলাকায় পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানান। কৃষকদের আশঙ্কা, ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেলে সেই সাফল্য শেষ পর্যন্ত তাদের আর্থিক স্বস্তি দেবে না।
সদর উপজেলার টাকিমারা গ্রামের কৃষক আবদুর রাজ্জাক জানান, এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সেচের খরচ কমেছে। পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম থাকায় কীটনাশক ব্যবহারের খরচও কমেছে অনেকের। তবে ধানের দাম কেমন হবে তা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। বরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুল খালেক বলেন, এবার প্রয়োজনের সময় নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যায় নাই। ইউরিয়া, ডিএপি ও অন্যান্য সারের জন্য কোথাও কোথাও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। বস্তাপ্রতি সারের ধরন ও স্থানভেদে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত দাম দিতে হচ্ছে- এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। 
কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৮ হাজার ৯২০ হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে ৮৮ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ সাত হাজার ৬৬৩ মেট্রিক টন। কৃষি সম্প্রাসারণ বিভাগের উপরিচালক ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া জানান, জেলায় এখনো সীমিত কয়েকটি এলাকায় ধান কাটা শুরু হওয়ায় প্রকৃত উৎপাদন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরো সময় লাগবে।