গম আর ধান
গম আর ধান।


দুরন্তপুর। কৃষকের ঘরে ঘরে ফসল। সবাই কম বেশি ফসল ফলায়। এই দুরন্তপুরের মিষ্টি খোকা রোদ। রোদের কথাগুলো খুব মিষ্টি। তাই রোদকে সবাই মিষ্টি খোকা বলে ডাকে। রোদের বাবা একজন কৃষক। 
বাবা এবার গম ও ধান এক সাথে রেখেছেন। ‘মানে এক ডোলে গম। আর একটি ডোলে ধান।’ 
মজার বিষয় হলো- ‘গম ধানকে দেখতে পারে। ধান গমকেও দেখতে পারে। খুব ভালোভাবেই দেখতে পারে।’ 
খুব কাচাকাচি ডোল দু’টি। রোদ খুবই মিশুক। সবার সাথে থাকতে চায়। একা থাকতে মোটেও পছন্দ করে না। রোদ বলল, ‘বাবা ডোল দুটিকে আরো কাছে রাখতে হবে।’
বাবা বললেন, ‘কেন বাপু?’
রোদ বলল, ‘কিছু না। পিলিজ, পিলিজ! রাখো বাবা।’
বাবা বললেন, কী হয়েছে গো বাপু, বলবে তো?’
রোদ বলল, ‘ওদেরও গল্প করা প্রয়োজন। একঘেয়েমি যেন না লাগে।’ 
বাবা বলল, ‘এই কথা, আগে বলবে তো। ঠিক আছে বাপু।’
‘ডোল দু’টি আরো কাছাকাছি  রাখা হলো।’
হঠাৎ একদিন গম বলল, ‘ধান ভাইয়া, কেমন আছো তুমি?’
দান বলল, ‘হ্যাঁ, ‘ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?’
গম বলল, ‘আমি ও ভালো আছি।’ তবে ইদানীং খুব কষ্ট হচ্ছে একটা বিষয়ে।
দান বলল, ‘কিসের কষ্ট তোমার। বলো তো শুনি?’
গম বলল, ‘তোমাকে দেখে খুব কষ্ট হয়।’ 
ধান বলল, ‘আমাকে দেখে তোমার কষ্ট হয়। মজা নাও মিয়া।’
আরে না, না, মজা নেব কেন। ওমা তুমি তো দেখছি কিছুই জানো না। সত্যি, সত্যি, সত্যি বলছি। তোমাকে নিয়ে সবার একটু বেশি কষ্ট হয়।
ধান বলল, ‘কই না তো’। 
‘হ্যাঁ তোমাকে নিয়ে একটু বেশি কষ্ট হয়। আর দেখো, আমাকে নিয়ে তোমার মতো কষ্ট করতে হয় না। আমার জন্য কৃষকদের কদর বেশি।’ 
এবার ধান রেগে লাল হয়েছে। আর বলল, ‘মিয়া তোমার চেয়ে আমার কদর বেশি। তুমি জেনেও এমন করে বলছ কেন?’
গম বলল, ‘ধুত্তেরি, কি যে ছাইপাস বলো তুমি। আমার কদর বেশি। আমাকে খাওয়ার জন্য সবাই ভালোবাসে। তাদের প্রিয় খাবার আমি। বুজলে গম ভাইয়া।’
ধান আরো রেগে সাপের মতো ফোঁসফোঁস করল। আর বলল, ‘যত ফসল আছে তার মধ্য আমার কদর বেশি। আমাকে সবাই নিয়মিত খায়। আমার যতœ সেজন্য বেশি বেশি করে বুঝলে।’
গমও গেল রেগে। একদম কালো হয়ে গেছে মুখ। ‘ইশ কী আজেবাজে বলো তুমি। আমাকে তাদের বিশেষ খাবার হিসেবে রাখে। আমাকে খাওয়ার জন্য গোশতের ঝোল খোঁজে। আমাকে সবাই মজা করে খায়।’ 
ধান হা হা হো হো হি হি হেসে বলল, ‘তোমার বুদ্ধি কম গম ভাইয়া। এতক্ষণে যা বুঝলাম।’ 
গম বলল, কি বুঝলে বলো তো শুনি?’
তাহলে শোনো, ‘তোমার থেকে ময়দা হয়। মানুষ হঠাৎ করে একদিন বা দুদিন খায়। নিয়মিত কী খায় তোমাকে?’
গম বলল, ‘না। সে জন্যই তো আমার কদর বেশি। আমাকে তাদের স্পেশাল খাবার হিসেবে রাখে।’
ধান বলল, ‘আসলেই তুমি বোকা গম ভাইয়া। আমার থেকে চাল হয়। তারপর ভাত। আর ভাত সবাই নিয়মিত খায়। একদিন ভাত না খেলে তাদের হয় না। সেজন্যই আমার জন্য কৃষকরা বেশি কষ্ট করে। যাতে ফলন বেশি পায়। কৃষক আমার রূপচর্চা না করলে, সবাইকে বাতাস খেয়ে মরতে হবে। বুঝলে গম ভাইয়া।’
ধানের কথা শুনে গমের মুখ শুকিয়ে গেছে। কী বলবে, কী বলবে ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। হঠাৎ বুদ্ধি করে বলল, ‘থ্যাট তুমি দেখতেই বিশ্রী। নোঙরা কোথাকার। আর আমায় দেখো আমি কী পরিষ্কার। চকচক করছে আমার গা।’ ‘বোকারাম গমরাম। আসলেই তোমার বিবেক বুদ্ধি নেই। সৌন্দর্যের বড়াই করিও না। আয়নায় গিয়ে দেখো আগে নিজেকে। মানুষেরাই বলে কে বেশি সুন্দর। শুনতেই তো পাও? আমি বেশি সুন্দর দেখে আমাকে সবাই সোনালি ধান নামে ডাকে।’
একের পর এক গম ও ধানের ঝগড়া চলেই যাচ্ছে। কেউ একটু ও নরম হয় না। তবে গম শুধু হেরেই যাচ্ছে। 
অবশেষে ধান, গমকে বলল, ‘দেখো গম ভাইয়া, আমাদের এসব নিয়ে ঝগড়া করা মোটেও ঠিক নয়। সেদিন দেখলে তো রোদ বাপু, আমাদের পাশাপাশি রাখতে বলল। আজীবনের জন্য নয়। ঠিক একদিন আমরা আর এখানে থাকব না। আমাদের যেতে হবে। মানুষ, পশুপাখি কারো না কারো পেটে। তাই এসব নিয়ে ঝগড়া করে আমাদের কী কোন ফায়দা হবে?’ গম বুঝতে পেরে বলল, ‘ঠিক বলেছ, ধান ভাইয়া। তুমি আমার চোখ খুলে দিয়েছ। আমাদের এসব নিয়ে বড়াই করা নিছক পাগলামি।’
তারপর থেকে গম ও ধান আর ঝগড়া করে না। ওরা হয়ে গেল একে অপরের 
ভালো বন্ধু। 

Advertisement