ফ্রান্সের বিক্ষোভের আদলে জার্মানিতে বড় গণজমায়েতের ডাক

 ডয়েচে ভেলে
ফ্রান্সে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পর এবার একই ধরনের কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে পার্শ্ববর্তী দেশ জার্মানিতে। আগামী ৩১ অক্টোবর (হ্যালোইন নাইট) দেশটির বার্লিন, কোলোন, হামবুর্গ ও মিউনিখসহ প্রায় ২১টি প্রধান শহরে একযোগে বিক্ষোভ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় তরুণদের সংগঠন ‘জেন জি রেজেল্ট’। ফরাসি শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত মূল দাবিগুলোর প্রতি সংহতি জানিয়ে এই কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়েছে। তবে প্যারিস ও অন্যান্য শহরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতা, ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক আচরণ থেকে জার্মানির আন্দোলনকারীরা সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সে গত সপ্তাহে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তরুণদের ক্ষোভ থেকে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে সাধারণ নাগরিক, শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন যুক্ত হয়ে সহিংস আন্দোলনে রূপ নেয়। এর জের ধরে ব্যাপক সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আসন্ন কর্মসূচি ঘিরে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তারা সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছে। সাধারণ মানুষের সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষা দেয়ার পাশাপাশি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা তাদের মূল লক্ষ্য। তবে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপট জার্মান নীতিনির্ধারক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে বামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো যেন এই আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে, সে বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
জার্মান ফেডারেল পুলিশের জিডিপি ইউনিয়নের প্রধান আন্দ্রেয়াস রসকফ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের দাঙ্গা বা বেআইনি কাজের চেষ্টা করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে রাজ্য এবং ফেডারেল পুলিশ শক্ত হাতে তা দমন করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। জার্মানির তরুণদের এই অসন্তোষের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় বাজেট বরাদ্দ হ্রাসের ফলে তৈরি সঙ্কট, জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয়, ক্রমবর্ধিষ্ণু সামাজিক বৈষম্য, বাধ্যতামূলক সামরিক সেবাব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত এবং জলবায়ু সংক্রান্ত উদাসীন নীতি। অংশগ্রহণকারী তরুণদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার ও নীতিনির্ধারকরা তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ চিন্তা না করে কেবল ধনী ও অভিজাতদের স্বার্থ হাসিলে মশগুল। অবশ্য সব ধরনের সঙ্ঘাত এড়াতে আন্দোলনকারী যুবসমাজ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তাদের মূল কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে এবং ফ্রান্সের মতো কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে তারা জড়াবে না।

Advertisement