মুক্ত বিনিয়োগনীতি হতে পারে রাজস্ব আয়ের গুরুত্বপূর্ণ কৌশল

আলমগীর কবির

Advertisement

দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলা, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং ব্যবসার স্থবিরতা কাটাতে মুক্ত বিনিয়োগনীতি চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট শাহ মো: খসরুজ্জামান। তার মতে, নতুন বিনিয়োগে কর-সুবিধা প্রদান, দেশে ও বিদেশে থাকা বাংলাদেশী অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা এবং গ্রাম পর্যায়ে করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ ল্েয তিনি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং কর প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার প্রস্তাব, কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। 
প্রশ্ন ১ : বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে  আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ঋণ পরিশোধের সমতা, রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি এবং ব্যবসার স্থবিরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং সরকারের বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় রাজস্ব আয় বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। এ অবস্থায় অর্থনীতিকে সচল ও শক্তিশালী করতে প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে নতুন ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
প্রশ্ন ২: দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে কী ধরনের উদ্বেগ রয়েছে?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার কমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। প্রবৃদ্ধির হার কমে গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে অর্থনীতিতে চাপ আরো বাড়তে পারে। আমাদের অর্থনীতিকে আবার গতিশীল করতে হলে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করা এবং বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রশ্ন ৩ : বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান এবং অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ স্বাভাবিক করা। শুধু করের হার বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব নয়। বরং করের আওতা সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং দেশের অভ্যন্তরে থাকা ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থকে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সাথে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করতে হবে।
প্রশ্ন ৪: আপনি রাজস্ব আয়ের একমাত্র কৌশল হিসেবে ‘মুক্ত বিনিয়োগনীতি’র কথা বলেছেন। বিষয়টি কী?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : মুক্ত বিনিয়োগনীতি বলতে আমি এমন একটি বিনিয়োগবান্ধব ব্যবস্থা বোঝাচ্ছি, যেখানে নতুন বিনিয়োগের ওপর করের বাধা কম থাকবে এবং বিনিয়োগকারীরা স্বচ্ছ ও সহজ শর্তে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ পাবেন। আমার প্রস্তাব হলো, নতুন বিনিয়োগের েেত্র বিনিয়োগকৃত মূলধনের ওপর কর আরোপের বিধান চলতি অর্থ বছরের জন্য প্রত্যাহার করা এবং নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে সৃষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে ব্যবসার লাভের উপর রাজস্ব আহরণের ব্যবস্থা করা।
এর মূল ল্য হলো, অর্থনীতিতে মুদ্রাবাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা। 
বিদেশী বিনিযোগকারীদের মূলধনের উপর কর মুক্ত থাকার সুযোগ আছে এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের অনুরূপ সুযোগ প্রদান করাই মুক্ত বিনিয়োগনীতির মূল লক্ষ্য। 
প্রশ্ন ৫: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আয় বাড়াতে এই নীতি কিভাবে ভূমিকা রাখবে?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়াতে হবে। নতুন বিনিয়োগ হলে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটবে। এর ফলে অর্থনীতিতে লেনদেন বাড়বে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে রাজস্ব আহরণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আমার প্রস্তাব হচ্ছে, নতুন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে কর-সুবিধা দেয়া হোক এবং সেই বিনিয়োগ থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে রাজস্ব আহরণের আওতায় আনা হোক। এতে করদাতার সংখ্যা বাড়বে এবং সরকারও দীর্ঘমেয়াদে অধিক রাজস্ব পেতে পারে। এনবিআর এসআরও ইস্যু করে কর রহিতকরণ ব্যবস্থা করার আইনি সুযোগ আছে। 
প্রশ্ন ৬: আপনার মতে, দেশে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ার প্রধান কারণ কী?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : বিনিয়োগ স্থবিরতার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অর্থের সঙ্কট, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা, উচ্চ কর ও জরিমানার আশঙ্কা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের অভাব উল্লেখযোগ্য। ব্যবসায়ীরা যদি মনে করেন যে তাদের বৈধ বিনিয়োগের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ পড়বে কিংবা ব্যবসা পরিচালনায় অনিশ্চয়তা থাকবে, তাহলে তারা নতুন বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও বিনিয়োগকে প্রভাবিত করে। তাই বিনিয়োগ বাড়াতে হলে এসব সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
প্রশ্ন ৭: বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার েেত্র আপনার প্রস্তাব কী?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : আমার প্রস্তাব হলো, দেশে নতুন বিনিয়োগের জন্য এমন একটি আইনসম্মত ও আকর্ষণীয় সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে বিদেশে থাকা বাংলাদেশীদের অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করা যায়।
বর্তমানে কেউ কেউ করের চাপ বা আর্থিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় দেশের বাইরে অর্থ রাখাকে সুবিধাজনক মনে করতে পারেন। তাদের জন্য যদি নতুন বিনিয়োগে নির্দিষ্ট কর-সুবিধা দেয়া হয়, তাহলে কর প্রদানের বদলে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকৃত অর্থের উপর কর প্রদান রহিত করলে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে ফেরত আসবে এবং দেশে অর্থ ফেরানোর আগ্রহ বাড়তে পারে। 
প্রশ্ন ৮: বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মতো দেশীয় বিনিয়োগকারীদেরও কর-সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব কেন করছেন?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : দেশীয় ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের েেত্র ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ থাকা প্রয়োজন। বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন দেশে বিশেষ কর-সুবিধা দেয়া হয়। একইভাবে বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদেরও নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে কার্যকর প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে।
দেশীয় উদ্যোক্তারা যদি নতুন শিল্প, কৃষি, আবাসন, স্বাস্থ্য, আমদানি-রফতানি এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ পান, তাহলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পুঁজি আরো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
প্রশ্ন ৯: নতুন বিনিয়োগে কর-অব্যাহতি দিলে সরকারের রাজস্ব আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা নেই কি?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : এ েেত্র স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। নতুন বিনিয়োগে কর-সুবিধা দিলে সেই বিনিয়োগের ফলে যদি উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক লেনদেন বৃদ্ধি পায়, তাহলে পরবর্তী সময়ে সরকারের রাজস্ব আহরণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। তা ছাড়া, নতুন  করদাতাদের ব্যবসার লাভের উপর প্রচুর পরিমাণে কর আদায় হবে এবং করদাতা অকল্পনীয়ভাবে বৃদ্ধিপাবে। 
তবে এই ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত নয়। কর-সুবিধা যথাযথভাবে পরিকল্পনা করতে হবে এবং এর সুফল নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। 
প্রশ্ন ১০: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কি প্রচলিত আইনের মধ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সরকারের অনুমোদন ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন বা বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট েেত্র কর-সুবিধা দেয়ার উদ্যোগ নিতে পারে। তবে সব ধরনের কর-অব্যাহতি দেয়ার মতা এনবিআরের এককভাবে রয়েছেÑ এমনটি বলা ঠিক হবে না। সংশ্লিষ্ট কর আইন, বিধান এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
আমি মনে করি, সরকার চাইলে আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে থেকে নতুন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য একটি বিশেষ নীতি গ্রহণ করতে পারে। 
রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করার বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ছাড়া করের কোনো বিকল্প উপায় নেই। 
প্রশ্ন ১১ : আপনার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কত দ্রুত অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা গেলে তুলনামূলক দ্রুত ইতিবাচক সাড়া পাওয়া সম্ভব। তবে ছয় মাসের মধ্যে মুদ্রাবাজারের সঙ্কট  এবং রাজস্ব আয়  উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন হবে। ফলাফল নির্ভর করবে নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া, ব্যাংকিং খাতের অবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
সরকারকে তাই নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে হবে। বিনিয়োগের পরিমাণ, কর্মসংস্থান, দেশে ফেরত আসা অর্থ, করদাতার সংখ্যা এবং রাজস্ব আয়ের পরিবর্তন পরিমাপের মাধ্যমে নীতির কার্যকারিতা নির্ধারণ করা উচিত।
প্রশ্ন ১২: অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় বিদেশী ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর উপায় কী?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : বিদেশী ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে হলে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে এবং দেশীয় সঞ্চয় ও বিনিয়োগকে উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করতে হবে। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং রফতানি আয় বাড়ানো গেলে অর্থনীতির নিজস্ব সমতা বৃদ্ধি পাবে।
একই সাথে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অর্থপাচার প্রতিরোধ, সরকারি ব্যয়ের দতা বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকি কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। ঋণ নিয়ে সাময়িকভাবে সঙ্কট মোকাবেলা করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলা অপরিহার্য।
প্রশ্ন ১৩ : রাজস্ব আহরণকে শহরকেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে গ্রামকেন্দ্রিক করার কথা বলেছেন। এটি কিভাবে সম্ভব?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, জমি, আবাসন এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটেছে। কিন্তু এসব কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে কার্যকরভাবে করের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় উপজেলা পর্যায়ে কর প্রশাসনকে আরো সক্রিয় করা প্রয়োজন। নতুন বিনিয়োগের সুবিধা সম্পর্কে প্রচার চালিয়ে গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও সম্পদশালী ব্যক্তিদের বৈধ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা যেতে পারে। একই সাথে কর নিবন্ধন, রিটার্ন দাখিল এবং কর পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে।
আমার মতে, কর প্রশাসনকে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া গেলে করের আওতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি রাজস্ব আহরণও বাড়ানো সম্ভব হবে।
প্রশ্ন ১৪: উপজেলা পর্যায়ে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কী ধরনের প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা যেতে পারে?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : এ েেত্র স্থানীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত কর-সমন্বয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব করছি। স্থানীয় জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এ ধরনের কমিটিতে থাকতে পারেন।
কমিটির কাজ হবে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে প্রচার চালানো এবং করদাতাদের সাথে মতবিনিময় করা। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা করসংক্রান্ত তথ্য ও সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং কর প্রশাসনের সাথে তাদের যোগাযোগ সহজ হবে।
কর আদায়ের নামে যেন কোনো ধরনের হয়রানি না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে এবং কর প্রদানে ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করা জরুরি। 
প্রশ্ন ১৫: নতুন বিনিয়োগে কর-সুবিধা দিলে কর ফাঁকি বা অর্থপাচার আরো বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে না কি?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : ঝুঁকি থাকবে না। বরং দেশে নতুন বিনিয়োগ বাড়বে, টাকা পাচার বন্ধ হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে। এতে সরকারও লাভবান হবে। এ ছাড়া রাজস্ব আদায়ে সরকারের সামনে অন্য কোনো পথ নেই; বাজেট ঘাটতিও পূরণ হবে।
প্রশ্ন ১৬: মুক্ত বিনিয়োগনীতি বাস্তবায়নের েেত্র সরকারের কাছে আপনার সুনির্দিষ্ট সুপারিশ কী?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : সরকারের কাছে আমার সুপারিশ হলো, প্রথমত, নতুন বিনিয়োগের ওপর কর-সুবিধা প্রদানের একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশীয় ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর করে ব্যাংকিং খাতে অর্থের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।
চতুর্থত, বিদেশে থাকা বৈধ বাংলাদেশী পুঁজি দেশে ফিরিয়ে এনে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পঞ্চমত, গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে করের আওতা সম্প্রসারণ করতে হবে। ষষ্ঠত, কর-সুবিধার ফলে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয়ের েেত্র কী পরিবর্তন হচ্ছে, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে।
এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রশ্ন ১৭: পরিশেষে, বর্তমান সরকারের প্রতি আপনার প্রত্যাশা কী?
শাহ মো: খসরুজ্জামান : বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারকে সাহসী, বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধু বিদেশী ঋণ বা প্রচলিত করব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সচল করতে হবে, করের আওতা সম্প্রসারণ করতে হবে এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।