
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউপিডিএফ-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী রাঙ্গামাটির সাজেকে যে অবরোধ সৃষ্টি করেছে, সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সরকার প্রধানের বিগত বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভুয়া নয়, সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাজেক ইস্যুতে পদপে নিন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না দৌড়িয়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদপে গ্রহণ করা প্রয়োজন। জামায়াত আমির সরকারকে উদ্দেশ করে আরো বলেন, সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারো নেই। সময় থাকতে সঠিক পদপে গ্রহণ করুন।
গোলাম আযমের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে : জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির বর্তমান আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ এবং দেশ গঠনে অধ্যাপক গোলাম আযমের অবদান রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দেয়া এক বিবৃতিতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) অধ্যাপক গোলাম আযমের দ্বাদশ মৃত্যুবার্ষিকী উপলে তিনি এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে তিনি মরহুমের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযম ছিলেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও লেখক। জীবনের নানা প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তি ও নির্যাতনের মুখেও তিনি তার আদর্শে অবিচল ছিলেন। তার ভালো কাজগুলো কবুল করে ভুলত্রুটি মা এবং জান্নাতের উচ্চ মাকাম দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযমের জীবন ছিল শিা ও গবেষণার বিষয়। রাজনৈতিক জীবনে তিনি মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ছিলেন। তার শিাজীবন, রাজনৈতিক জীবন ও পেশাগত কর্মকাণ্ডে সে বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জামায়াত আমির আরো বলেন, নাগরিকদের অধিকার রায় অধ্যাপক গোলাম আযম ছাত্রজীবনে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে শিার্থীদের অধিকার আদায়ে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তমদ্দুন মজলিসের সাথে যুক্ত হয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান অধ্যাপক গোলাম আযমকে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফর্মুলা’র রূপকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের ল্েয ১৯৮৩ সালে অধ্যাপক গোলাম আযম প্রথম এ ফর্মুলা উপস্থাপন করেন এবং ১৯৯৬ সালে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংযোজন করা হয়।
অধ্যাপক গোলাম আযমের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের কথা তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি ১৯৫৪ সালের এপ্রিলে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালের জুনে রাজশাহী বিভাগীয় জামায়াতের সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। পরের বছর পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও রাজশাহী বিভাগীয় আমিরের দায়িত্ব পান। ১৯৬৯-৭১ সেশনে তিনি পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির নির্বাচিত হন। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে তিনি আমিরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন।
বিবৃতিতে তার কারাজীবনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযম জীবনের বিভিন্ন সময়ে কারাভোগ ও নির্যাতনের শিকার হন। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি তিনি গ্রেফতার হন। ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর কারাগারে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমিরের মৃত্যু হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








