
রংপুর ব্যুরো
রংপুরে একটি অস্থায়ী মন্দিরের দখল নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুইপরে মধ্যে সড়ক অবরোধ, বিােভ ও হাতাহাতির ঘটনায় তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় সেখানে বিজিবি মোতায়েন করেছে জেলা প্রশাসন।
জমির মালিক দাবিদার পরে অভিযোগ জেলা কৃষকলীগ সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ গোস্বামী প্রান্নু মন্দিরের নামে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছেন। অন্য দিকে কমিটির অভিযোগ জায়গাটি বিক্রির জন্য বায়না হলেও রেজিস্ট্রি না হওয়ায় মালিকপ দখলে রাখার চেষ্টা করছে। এর দিকে লগ্ন চলেও গেলেও গতকাল বিকেলেও মন্দিরটির দুর্গামূর্তি বিসর্জন হয়নি। পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর পুলিশের প থেকে মূর্তি বিসর্জনের নির্দেশ দেয়া হলেও মানছে না কমিটি। ফলে ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা চলছে।
গতকাল সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে মন্দিরটি মূর্তিসহ পাহারা দিচ্ছে বিজিবি। তাদের সাথে আছে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।
ঘটনাস্থলে বিজিবির পাহারায় থাকা প্লাটুন কমান্ডার নায়েক সুবেদার রিয়াজুল ইসলাম জানান, রাতে ৩ প্লাটুন (৬০) ঘটনাস্থল রেখেছিলাম। সকাল থেকে ১ প্লাটুন (২০ জন) মোতায়েন আছে। বর্তমানে কোনো উত্তেজনা নেই।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যা থেকে নগরীর ঠিকাদারপাড়া অস্থায়ী মন্দির এলাকায় এই উত্তেজনা চলছে। নগরীর সবগুলো মন্দির থেকে মূর্তি মুলাটোল পুকুরে বিসর্জন দেয়া হলেও এই মন্দিরটি থেকে বিসর্জনের জন্য নেয়া হয়নি।
প্রত্যদর্শীরা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ওই মন্দির কমিটি বিসর্জনের জন্য মূর্তি না সরিয়ে সেখানে কালিমন্দির স্থাপন করতে গেলে তাতে বাধা দেয় জমির মালিক দাবিদার রীতা রানী রায়ের পরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা কৃষকলীগ সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ গোস্বামী প্রান্নুর নেতৃত্বাধীন মন্দির কমিটি সমর্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সড়ক অবরোধ করে বিােভ করতে থাকেন। অন্য দিকে মন্দির এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিােভ করতে থাকে অপরপ। পরে সেখানে ছুটে যান পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ডা: নিখিলেন্দু গুহের নেতৃত্বে হিন্দু নেতারা। আগেই সেখানে উপস্থিত হয় মহানগর পুলিশ। মন্দির কমিটি কালিমন্দির স্থাপন না করে দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নেয়া থেকে বিরত থাকে। অপর দিকে জমির মালিক দাবিদার প কোনোভাবেই সেখানে কালি প্রতিমা স্থাপন করতে না দেয়ার দাবিতে অনড় থাকে। ফলে সেখানে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। রাত ১১টা ২০ মিনিটে সেখানে বিপুল পরিমাণ বিজিবি মোতায়েন করে জেলা প্রশাসন। বিজিবি এখন মন্দিরটির আশপাশ ঘিরে রেখেছে। অন্য দিকে দুই পই দুই দিকে অবস্থান নেয়। রাতে আবারো দুই পরে মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উভয়পকে শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে সেখানে এসআরবি সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।
জমির মালিক রীতা রানী রায়ের অভিযোগ, ‘ঠিকাদার পাড়ার ঘটনাস্থলে তাদের পারিবারিক নিজ জমিতে থাকা স্বামীর নামে দশরথ গ্যারেজে প্রতি বছর পূজার সময় অস্থায়ীভাবে মণ্ডপ বানিয়ে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। পূজার পর তা সরিয়ে নিয়ে আবার গ্যারেজ চালু করা হয়। আওয়ামী লীগ আমলে অস্থায়ী ওই মন্দির কমিটির সভাপতি ও জেলা কৃষকলীগ সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ গোস্বামী জমিটি মন্দিরের নামে আমার স্বামী দশরথ রাউতের কাছ থেকে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই নিয়ে সেটি দিয়ে দখল করার চেষ্টা করতে থাকে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সেটা না পেয়ে আবারো এই সরকারের আমলে সেটা করছে। বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ আমলে অনেক জুলুম নির্যাতন করেছে। এখনো অত্যাচার করছে।
রীতা রানির মেয়ে মুনমুন রানীর অভিযোগ, ‘আমার বাবা দশরথ রাউথ কৃষকলীগ সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ গোস্বামীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার করে টাকা ধার নিয়েছিলেন। গ্যারেজে কাজ করে সেই টাকার পরিশোধ করেন। কিন্তু প্রাণ কৃষ্ণ আওয়ামী লীগ আমলে আমার বাবার কাছে একটি সাদা স্ট্যাম্পে সই নেন। এরপর জমিটি তার নামে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার একটি বায়না দলিল সৃষ্টি করে রেজিস্টি করে দেয়ার জন্য চাপ দেন। সেটিরও মেয়াদ শেষ হয়েছে। তখন আমরা মামলা করি। ওই বানানো বায়না স্ট্যাম্পেও মন্দির লেখা নাই। প্রাণকৃষ্ণ তার নিজের নামে করেছেন। অর্থাৎ তিনি মন্দিরের নামে আমাদের জমিটি দখল করতে চাইছেন।
রীতা রানীর স্বামী দশরথ রায় জানান, ২৭ সাল পর্যন্ত আমাদের খাজনা-খারিজ দেয়া আছে। কিন্তু প্রাণকৃষ্ণ আমার জমি দখল করার জন্য মন্দিরের বাহানা করছে। আমি মন্দিরের পাশেই আমার তিন ছেলে এবং বোনসহ বসবাস করি। আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এই গ্যারেজ। কিন্তু মন্দিরের নামে সেটা দখল করতে চাইছে। প্রয়োজনে আমরা আমাদের পরিবারের সবার জীবন দিবো তবুও জমি দখল হতে দেবো না।
অন্য দিকে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমল গোস্বামীর দাবি, ওইখানে দীর্ঘ ৩৭ বছর থেকে অস্থায়ীভাবে পূজা হতো। পরবর্তীতে জমির মালিক মন্দিরের সভাপতি জেলা কৃষকলীগ সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ গোস্বামীর নামে বিক্রির জন্য বায়না করেন। তিনি জমিটি কিনে মন্দিরের নামে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তারা রেজিস্ট্রি দিচ্ছিল না। আমরা আদালতের অনুমতি নিয়ে এবারো পূজা করছি। আমরা কালির মূর্তি বসাতে গেলে বাধা পাওয়ায় অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছে। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন দিবো না।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ডা. নিখিলেন্দু গুহ জানান, আমরা আদালতের আদেশ অনুযায়ী দুর্গা মন্দিরটি বিসর্জনের জন্য কমিটিকে বলেছি। কিন্তু তারা সেটা করছে না। এ দিকে লগ্ন চলে যাচ্ছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








