প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঘিরে ফেসবুক মন্তব্য, ডিবি হেফাজতে যুবক ও বাবা

রাজশাহী ব্যুরো

Advertisement

‘ইস! একটা বড় সুযোগ ছিল। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরে ব্যবহৃত একটি বাসের ছবি নিয়ে ফেসবুকে প্রকাশিত একটি পোস্টের মন্তব্যের ঘরে এ কথা লেখেন ফেসবুক ব্যবহারকারী এক কলেজ ছাত্র ‘আবু বকর সিদ্দিক’। পরে ওই মন্তব্য ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে  তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় তার বাবা আয়নাল হককেও হেফাজতে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে বাবা-ছেলে দুজনই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘিরে আবু বকরের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও নানা বক্তব্য সামনে এসেছে। পরিবারের দাবি, তাকে এ ঘটনায় ফাঁসানো হচ্ছে। অন্য দিকে, স্থানীয় কয়েকজনের বক্তব্যে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ফেসবুক অ্যাকাউন্টটির প্রকৃত ব্যবহারকারী, মন্তব্যের পেছনের উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয়।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও চন্দ্রিমা থানা পুলিশের একটি দল আবু বকরের বাড়িতে গিয়ে তাকে পায়নি পরে বিকেল ৪টার দিকে এসআরবি-৫-এর সদস্যরা সাদা পোশাকে সেখানে অভিযান চালান। আবু বকরকে না পেয়ে তার বাবা আয়নাল হককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
একপর্যায়ে আয়নাল হক জানান, তার ছেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার হাটরামচন্দ্রপুর ঘোলহারিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে রয়েছেন। পরে ওই বাড়ি থেকে আবু বকরকে আটক করা হয়। এ সময় পরিবারের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এসআরবি-৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সাল ইশতিয়াক গণমাধ্যমকে জানান, আবু বকর ও তার বাবাকে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ডিবির প থেকে জানানো হবে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে ডিএমপি কাজ করছে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী এসআরবি অভিযুক্ত যুবককে আটক করে ডিএমপির কাছে হস্তান্তর করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আবু বকরের কোনো রাজনৈতিক দল বা রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ডিএমপির প থেকেই জানানো হবে।
এ দিকে আটকের পর বৃহস্পতিবার সকালে আবু বকরের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, চন্দ্রিমা থানা পুলিশ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালালেও জব্দ করার মতো উল্লেখযোগ্য কোনো আলামত পায়নি। শুধু একটি পেনড্রাইভের মোড়ক জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সময় পুলিশ আবু বকরের ব্যবহৃত ল্যাপটপ উদ্ধারের চেষ্টা করে। তবে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, আবু বকর ল্যাপটপ ব্যবহার করতেন না এবং তার কোনো ল্যাপটপ নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আবু বকর ও তার বাবাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়নি।
রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার কেচুয়াতৈল এলাকায় আবু বকরের বাড়ি। বাবা আয়নাল হক পেশায় কৃষক। চার ভাইবোনের মধ্যে আবু বকর সবার বড়। তিনি রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিার্থী।
কলেজটির ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আবু বকর নিয়মিত শিার্থী এবং প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীা দিয়েছেন। তবে পরীার ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। কলেজে তার মধ্যে খারাপ কিছু দেখেননি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পড়াশোনার পাশাপাশি আবু বকর ভ্যানে সবজি পরিবহনের কাজ করেন। এলাকায় তিনি পরিশ্রমী ও ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত। বাইকারদের একটি দলের সাথেও তার যোগাযোগ রয়েছে। ওই দলের সদস্যদের সাথে মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যেতেন তিনি।
আবু বকরের মা আসমাউল হুসনা দাবি করেন, তার ছেলে নিরীহ, পরিশ্রমী ও মেধাবী। তাকে এ ঘটনার সাথে ফাঁসানো হচ্ছে।