
ওয়ানডেতে দুই দল এখন পর্যন্ত ২২ বার মুখোমুখি হয়েছে। উভয় দলই জিতেছে ১১টি করে ম্যাচ। তবে সর্বশেষ ছয় লড়াইয়ের পাঁচটিতেই জয় আফগানদের। এই পাঁচটি জয়ই এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের
শারজাহ ও আবুধাবিতে।
২০২৪ সালে শারজাহতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০২৫ সালেও তাদের দুর্দশা কাটেনি। সে বছর আবুধাবিতে তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করে আফগানিস্তান। ওই সিরিজে একটি ম্যাচে ২০০ রানের বড় ব্যবধানে হারের লজ্জাও
পায় বাংলাদেশ।
২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান ৯ উইকেটে ২৯৩ রান করে। জবাবে মাত্র ৯৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। সেই হারের এক বছর ছয় দিন পর আবারো ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।
ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে সাফল্য পেলেও দেশের বাইরে গিয়ে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ডের তুলনায় জিম্বাবুয়ে কিংবা আফগানিস্তান অপেক্ষাকৃত কমশক্তির দল হলেও তাদের সাথে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসে বিবর্ণ বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে। ওই হারই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের কিনারে ঠেলে দিয়েছে বাংলাদেশকে।
আরব আমিরাতে ত্রিদেশীর সিরিজে বাংলাদেশ এখনো পয়েন্ট পায়নি। অন্য দিকে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের পয়েন্ট ২ করে। বাংলাদেশকে ফাইনালে যেতে হলে লাগবে ২ পয়েন্ট। তবে কেবল ২ পয়েন্ট পেলেই চলবে না। আছে নেট রান রেটের হিসাবও। আফগানদেরকে নির্দিষ্ট ব্যবধানে হারাতে পারলেই ফাইনালের টিকিট পাবে টাইগাররা, নয়তো জিতেও বাদ পড়তে হবে। শারজাহ স্টেডিয়ামে আজ বিকেল ৫টায় মুখোমুখি হবে কঠিন সমীকরণে থাকা বাংলাদেশ ও স্বস্তিতে থাকা আফগানিস্তান। ২৩ অক্টোবর ফাইনাল।
বাংলাদেশ যদি আগে ব্যাট করে তখন আফগানিস্তানকে ৪১ রানে হারাতে হবে। সেক্ষেত্রে নেট রান রেটে জিম্বাবুয়েকে টপকে ফাইনালে চলে যাবে বাংলাদেশ দল। অন্য দিকে বাংলাদেশ যদি পরে ব্যাট করে তখন রান তাড়া করতে হবে দ্রুত। আফগানিস্তান যদি আগে ব্যাট করে বাংলাদেশকে ২০০ রানের টার্গেট দেয়, তখন রান তাড়া করতে হবে ৪০.৩ ওভারের মধ্যে। যদি আফগানরা বাংলাদেশকে ২৫০ রানের টার্গেট দেয় তখন বাংলাদেশকে ৪১.৩ ওভারের মধ্যে রান তাড়া করতে হবে। আফগানরা যদি টাইগারদেরকে ৩০০ রানের টার্গেট দেয়, তখন ৪২.২ ওভারের মধ্যে রান তাড়া করতে হবে বাংলাদেশ দলকে। এর পরে যদি বাংলাদেশ রান তাড়া করে জিতেও যায় তখনো নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকাতে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান যাবে ফাইনালে।
স্কোর সমান করে শেষ বলে চার বা ছক্কা হাঁকানোর ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি বল থাকবে বাংলাদেশের হাতে। ২০০ রানের টার্গেটে যদি স্কোর সমান করে চার মারা যায়, তখন ৪১.১ ওভারের মধ্যে জিতলেই চলবে। যদি স্কোর সমান করে ছক্কা হাঁকানো যায়, তখন ৪১.৪ ওভারের মধ্যে জিততে হবে টাইগারদেরকে। ২৫০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে হলে স্কোর সমান করে চার মারলে ৪২.১ ওভার পর্যন্ত সময় পাবে বাংলাদেশ। যদি স্কোর সমান করে ছক্কা হাঁকানো যায় তখন সুযোগ থাকবে ৪২.৩ ওভার পর্যন্ত। ৩০০ রানের টার্গেটে ব্যাট করলে স্কোর সমান করে চার মারতে পারলে বাংলাদেশ সময় পাবে ৪২.৫ ওভার পর্যন্ত, স্কোর সমান করে ছক্কা হাঁকালে ৪৩.২ ওভার পর্যন্ত সময় থাকবে বাংলাদেশের হাতে।
জিম্বাবুয়েরও ফাইনাল খেলার সুযোগ আছে। বাংলাদেশ যদি ৩৯ বা তার চেয়ে কম রানে আফগানিস্তানকে হারায়, তখন জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান যাবে ফাইনালে। যদি বাংলাদেশ আফগানিস্তানকে ২১৮ রান বা তার চেয়ে বেশি রানে হারাতে পারে তখন বিদায় নেবে আফগানরা। জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ যাবে ফাইনালে। বাংলাদেশের কাছে ২১৬ রানে হারলেও ফাইনালে যেতে পারবে আফগানরা। তখন আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ ফাইনালে খেলবে।
তিন দলের সিরিজে পয়েন্ট টেবিলে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে আফগানিস্তান। এক ম্যাচ খেলে একটিতেই জিতেছে তারা। তাদের পয়েন্ট ২। নেট রান রেট প্লাস ৩.১৬০। অন্য দিকে জিম্বাবুয়ে দুই ম্যাচ খেলে এক জয়ের সাথে ১ ম্যাচ হেরেছে। তাদের নেট রান রেট মাইনাস ০.৫৯০। বাংলাদেশ আছে সবচেয়ে তলানিতে। এক ম্যাচ খেলে একটিতে হেরেছে টাইগাররা, পয়েন্ট ০। নেট রান রেট মাইনাস ১.৯৮০।
ফাইনাল খেলার জন্য আফগানিস্তানকে কেবল হারালেই চলবে না বাংলাদেশের, সমীকরণ অনুযায়ী হারাতে হবে। মাঠের খেলাটাও তাই সেভাবে সমীকরণ ধরে হিসাব করেই খেলতে হবে।
পরিবর্তন আনতে হবে মানসিকতায় : হৃদয়
আজ টুর্নামেন্টে বাঁচা-মরার লড়াই বাংলাদেশের। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এ ম্যাচটি শুধু জিতলেই হবে না, জিততে হবে বড় ব্যবধানে। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের জন্য ২৭২ রান তাড়া করতে এসে বাংলাদেশ ১৭২ রানেই অলআউট। বিদেশের মাটিতে কেন ভালো করতে পারছে না বাংলাদেশ? বিশেষ করে ওয়ানডেতে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে কেন বারবার হোঁচট খাচ্ছেন ব্যাটাররা? এ সমস্যার পেছনে অবশ্য ব্যাটারদের দক্ষতার ঘাটতি দেখছেন না তানজিদ হাসান তামিম। তার মতে, বিদেশের মাঠে ভালো করতে হলে মানসিকতা, প্রস্তুতি ও দলীয় সমন্বয়ে পরিবর্তন আনতে হবে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে গতকাল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তানজিদ বলেন, ‘স্কিলের সমস্যা থাকলে আমরা ঘরের মাঠেও ভুগতাম। ঘরের মাঠে যেভাবে খেলি, একই মানসিকতা নিয়ে দেশের বাইরেও যদি খেলতে পারি, একই রকম প্রস্তুতি নিয়ে দল হিসেবে ভালো করতে পারি, তাহলে আমার মনে হয় খুব ভালো হবে।’
ওয়ানডেতে ৩০০ বা তার বেশি রান তাড়া করার চাপ সামলানোর একটা সমাধানও সূত্রের কথাও জানিয়েছেন তানজিদ। তার ভাষায়, ‘আমরা যদি ৩০০-৩৫০ চিন্তা না করে ছোট ছোট লক্ষ্য ধরে খেলি, তাহলে আমার মনে হয় কাজটি সহজ হবে। আমাদের এভাবেই মানসিকতা তৈরি করতে হবে।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হারের পর দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বিসিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তানজিদ। তার মতে, দল হিসেবে একত্রিত থাকা এবং প্রতিটি ম্যাচকে সমান গুরুত্ব দেয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি, ‘আমরা একটা পরিবারের মতো। কেউ চায় না এই পরিবারের মধ্যে নেতিবাচক কিছু তৈরি হোক। সবাইকে একসাথে থেকে দল হিসেবে ভালো করতে হবে। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে না অস্ট্রেলিয়া, সেটি না ভেবে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে সমান মনোযোগ ও প্রস্তুতি নিয়ে খেলতে হবে। দলের মধ্যে এই ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখতে পারলে সামনের ম্যাচগুলোয় ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








