চার জেলায় ব্যবসায়ীসহ ৫ জনের লাশ উদ্ধার

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

Advertisement

পাবনায় নেশার টাকার জন্য মাকে গলা কেটে হত্যা করেছে ছেলে। পরে পুলিশ মাদকাসক্ত ছেলেকে আটক করেছে। অন্য দিকে দেশের চার জেলায় ব্যবসায়ীসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ার গড়াই ও পদ্মা নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয় দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার পৃথক ঘটনায় কুমারখালীতে গড়াই নদী থেকে এক যুবকের অর্ধগলিত এবং দৌলতপুরে পদ্মা নদী থেকে এক বৃদ্ধের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। 
সোমবার সন্ধ্যায় কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের লাহিনীপাড়া এলাকায় রেলসেতুর নিচ থেকে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার বয়স আনুমানিক ২৮ থেকে ৩০ বছর। পুলিশ ধারণা করছে, দুই থেকে তিন দিন আগে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: আমিরুল ইসলাম বলেন, গড়াই নদীতে ভাসমান অবস্থায় ওই যুবকের অর্ধগলিত লাশ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নৌপুলিশকে জানানো হয়েছে। 
অন্য দিকে সোমবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভুরকাপাড়া এলাকার ঈদগাহসংলগ্ন পদ্মা নদীতে এক বৃদ্ধের লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে নৌপুলিশের সদস্যরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠান। মৃত ব্যক্তির পরনে লুঙ্গি ও গেঞ্জি ছিল। তার মাথার চুল সাদা। স্থানীয়দের ধারণা, তার বয়স ৬৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। তবে তার পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। 
কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, পিরোজপুরের কাউখালীতে স্বপন দেবনাথ (৪৬) নামের এক টেইলার্স ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট এলাকার একটি রেন্ডি গাছ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত স্বপন দেবনাথ উপজেলা সদরের কাপুরিয়াপট্টি এলাকার ‘শ্রুতি টেইলার্স’-এর মালিক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাউখালীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়া গ্রামে।
নোয়াখালী অফিস জানায়, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ রোকন কর্মকার (৩২) নামে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত  লাশ উদ্ধার করে  ময়না তদন্তের  জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার  বেলা ৩টায় বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল গেট এলাকার ফাইজা কটেজ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রোকন কর্মকার বেগমগঞ্জ উপজেলার রফিকপুর গ্রামের শংকর কর্মকারের ছেলে। তিনি বসুরহাট পৌরসভার হাসপাতাল গেট এলাকায় একটি স্টিলের (এসএস) দোকান পরিচালনা করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোকন কর্মকার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতাল গেট এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঘটনার দিন তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকায় তিনি বাসায় একা ছিলেন। দুপুরের দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরে স্থানীয়রা তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দেনা দায়ে অথবা আর্থিক সঙ্কটের হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভয়নগর (যশোর) সংবাদদাতা জানান, যশোরের অভয়নগরে বাড়িতে একা থাকা আছিয়া বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যার পর বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও জমির দলিল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
নিহত আছিয়া বেগম রামনগর গ্রামের মৃত আবু দাউদ শেখের স্ত্রী। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। তার সাথে একই বাড়িতে বসবাস করা বোন নিজের মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় ওই রাতে বাড়িতে আর কেউ ছিলেন না।
তবে হত্যাকারে সাথে লুটপাটের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারা এবং কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাবনা প্রতিনিধি জানান, পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় নেশার টাকা না দেয়ায় নিজের মাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বৃলাড়ীবাড়ী ইউনিয়নের লক্ষীকুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোছা: সূর্যবানু (৬০) ওই এলাকার মৃত লোকমান সরদারের স্ত্রী। অভিযুক্ত তাদের সন্তান উদ্দিন সরদার (২৩)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হলেন মনজুরুল হাসান মাসুদ জানান, নেশার টাকা না দেয়ায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমরা অভিযুক্ত ছেলেকে পাশের একটি বাড়ির থেকে গ্রিল কেটে আটক করেছি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহের মহেশপুরে পারিবারিক কলহের জেরে জামাই গোলাম রহমানকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার বলিভদ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহত গোলাম রহমান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার হুদারাড়ী পাড়া গ্রামের কারী গোলামের ছেলে। অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম মহেশপুর উপজেলার বলিভদ্রপুর গ্রামের মৃত গাজী আব্দুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য এনামুল হোসেন জানান, গত সোমবার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন গোলাম রহমান। যৌতুক দেয়ার পরেও মেয়ের ওপর নির্যাতনের কারণে  বেশ কিছুদিন ধরে শ্বশুর তরিকুল ইসলামের সাথে তার মনোমালিন্য চলছিল।
এর জের ধরে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তরিকুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো কুড়াল দিয়ে গোলাম রহমানকে এলোপাতাড়ি কোপান। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে সকাল ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের উলিপুরে নিজ ভাতিজার বাড়িতে বেড়াতে এসে প্রাণ হারালেন মোকসেদ আলী ওরফে বাচ্চু মিয়া (৬০)। মঙ্গলবার ভোরে ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের কিশামত মধুপুর খামার গ্রামের পণ্ডিতপাড়া এলাকার একটি শয়নকক্ষ থেকে তার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে নিহতের ভাতিজাপুত্র রাব্বি মিয়ার (৩০) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিহত বাচ্চু মিয়ার বাড়ি রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জ থানার নব্দীগঞ্জ কলাবাড়ি এলাকায়। তিনি ঐ গ্রামের মৃত সজর উদ্দিন সরকারের ছেলে। সম্প্রতি তিনি বেড়াতে এসে তার ভাতিজা মিঠু মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই তার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বাচ্চু মিয়াকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার পেছনে কোনো বিরোধ ছিল কি না কিংবা এতে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।