
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
লালনের আখড়ায় সুরের বদলে আতঙ্ক, সাধুসঙ্গের মিলনমেলায় উদ্বেগের ছায়া। বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদার, মোতায়েন করা হয়েছে দুই প্লাটুন বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ। আখড়াবাড়ির প্রধান ফটক থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তুটি ‘টাইম বোমা’ বলে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন গত রাতে নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, নির্দিষ্ট সময়ে বোমাটি বিস্ফোরিত হতো। সাথে দু’টি বোতলে পেট্রল থাকায় এর ভয়াবহতা অকল্পনীয় ছিল। আগে থেকে টের পাওয়ায় রক্ষা হয়েছে। বোমা নিষ্ক্রিয় করার পরও কাটেনি আতঙ্ক। রোববার দুপুরে পুণ্যসেবা গ্রহণ শেষে বাউল-সাধু ও দর্শনার্থীদের অনেকে আখড়াবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসবের সমাপনী দিনে গতকাল মেলা প্রাঙ্গণের প্রাণচাঞ্চল্য অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়ে। কমেছে দোকানপাটের বেচাকেনাও। এমন উদ্বেগ আর কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই গতকাল শেষ হয়েছে ফকির লালন সাঁইজির ১৩৬তম তিরোধান দিবসের আনুষ্ঠানিক আয়োজন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ১২টার দিকে আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের কাছে নারিকেল গাছের গোড়ায় একটি সাদা ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় এক চায়ের দোকানদার। ব্যাগটি খুলে তিনি লাল টেপে মোড়ানো বোমাসদৃশ বস্তু, প্রায় দুই লিটার পেট্রল এবং দু’টি সার্কিটসদৃশ বস্তু দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি কুমারখালী থানা পুলিশ ও মেলা আয়োজক কমিটিকে জানান। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মাজারের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন। এরপর গতকাল সকালে ঢাকা থেকে আসা বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের এসআরইউ ইউনিটের সদস্যরা বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করেন। বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করার পরও সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে আখড়াবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও উপসচিব মো: মিজানুর রহমান বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কেউ আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
এদিকে বোমা আতঙ্কের মধ্যেই সমাপনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ফকির লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী দর্শন ও আদর্শ সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লালনের গান, বাণী ও তাত্ত্বিক চিন্তা মানুষের কল্যাণ, সমাজের উন্নয়ন এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞানের পরিধি বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। লালনের দর্শন ও মানবিক চেতনা ধারণ করে সমাজকে এগিয়ে নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. আহমেদ শফিক হাসামী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসা: ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো: আমিনুল ইসলাম, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার। আলোচনায় অংশ নেন নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: খালেদ উজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: মিজানুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: তৌহিদ বিন-হাসান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








