‘টেন্ডার নিয়ে চাপ-হয়রানি আর সহ্য করবে না খামারবাড়ি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) খামারবাড়ি কার্যালয়ে ঢুকে দরপত্র নিজেদের অনুকূলে নিতে চাপ প্রয়োগ, প্রকল্প পরিচালককে মারধরের হুমকি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানির ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে অধিদফতর। অতীতে একাধিক প্রকল্প পরিচালককে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এবার বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের (প্রথম সংশোধিত) পরিচালকের কক্ষে ঠিকাদার ও তার সহযোগীদের হুমকি দেয়ার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর অধিদফতরের কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেছেন ঊর্ধ্বতনরা। অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: আব্দুর রহিম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি কাজে অবৈধ চাপ, দালালি কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে হয়রানি আর সহ্য করা হবে না।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খামারবাড়ির বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালকরা তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি মহাপরিচালকের কাছে তুলে ধরেছেন। বিষয়টি কৃষিমন্ত্রী ও সচিবকেও তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে। সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি কিংবা অনৈতিকভাবে দরপত্র প্রভাবিত করার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পক্ষে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ও।
এ বিষয়ে নয়া দিগন্তকে ডিএইর মহাপরিচালক মো: আব্দুর রহিম বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। এ জন্য কৃষিমন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নেয়া হবে।
তিনি বলেন, এর আগেও বিভিন্নভাবে আমরা সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখিয়েছি; কিন্তু এখন বিভিন্ন মহল থেকে এসে কেউ দালালি বা প্রতারণার মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি কিংবা হয়রানি করবে, তা আর সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে থাকব। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি সুষ্ঠু পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তাহলে সরকারের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না। কেউ এখানে এসে অবৈধভাবে চাপ সৃষ্টি করলে, তিনি যে-ই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত : প্রকল্প পরিচালক মোস্তফা কামাল গত শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
জিডির তথ্য অনুযায়ী, তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রকল্পটির লিয়াজোঁ অফিস রাজধানীর খামারবাড়িতে। গত ১৪ অক্টোবর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সভায় অংশ নিতে তিনি ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আসেন। এরপর ওই দিন বেলা আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটে হাসানুর রহমান মিন্টু নামে এক ঠিকাদার এবং মিলন নামে এক ব্যক্তিসহ দু’জন তার অফিসকক্ষে ঢোকেন। খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রথম ভবনের চতুর্থ তলার ৪১১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
মোস্তফা কামালের অভিযোগ, তার প্রকল্পের ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম-সংক্রান্ত একটি দরপত্র ই-জিপি ব্যবস্থায় উন্মুক্ত ছিল। দরপত্রটি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে দেয়ার জন্য তাকে চাপ দেয়া হয়। একপর্যায়ে ঠিকাদার তার পরিচিত এক ব্যক্তিকে মুঠোফোনে লাউডস্পিকারে যুক্ত করেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
জিডিতে আরো বলা হয়, ফোন রাখতে বললে ঠিকাদার তাকে থাপ্পড় মেরে দাঁত ফেলে দেয়ার হুমকি দেন এবং চুপচাপ চেয়ারে বসে থাকতে বলেন। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে সরকারি দায়িত্ব নির্বিঘেœ পালনের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেন তিনি।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ : খামারবাড়ির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এর আগেও একাধিক প্রকল্প পরিচালককে হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের কাছে  অভিযোগ দেয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে তাদের দাবি। সর্বশেষ ঘটনায় প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে ঢুকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ এবং সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
এ ঘটনায় অধিদফতরের একাধিক বৈঠকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি ওঠে। বিশেষ করে প্রকল্প পরিচালকরা তাদের দাফতরিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যাতে কোনো ব্যক্তি বা মহলের অনৈতিক চাপের মুখে না পড়েন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনে পরে জানাবেন বলে জানান। তবে পরবর্তী সময়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।