মাইনীমুখ বাজারে ২৫ ফায়ার রোডের বেশির ভাগই দখলে

বিপ্লব ইসলাম লংগদু (রাঙ্গামাটি) 
পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাইনীমুখ বাজার। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রাণকেন্দ্র এই বাজারটি এখন অস্তিত্বের সঙ্কটে না পড়লেও হারাতে বসেছে তার স্বাভাবিক পরিবেশ ও স্বকীয়তা। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালীদের দখলে সঙ্কুচিত হচ্ছে বাজারের জায়গা, একের পর এক বেদখল হচ্ছে অগ্নিনির্বাপণের জন্য নির্ধারিত ফায়ার রোড। কোথাও গড়ে উঠেছে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা, কোথাও সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়েছে চলাচলের পথ। ফলে এক দিকে হাটের দিনে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্য দিকে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 
রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ বাজারের বিভিন্ন স্থানে ফায়ার রোড দখল স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সরেজমিন বাজারের কয়েকটি স্থানে ফায়ার রোডের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ ও চলাচলের পথ সঙ্কুচিত হওয়ার চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রতি শনিবার সাপ্তাহিক হাট বসলে মানুষের উপচে পড়া ভিড়, পণ্য পরিবহন ও যানবাহনের চাপে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত চলাচলের জন্য নির্ধারিত পথই যদি দখলে থাকে, তাহলে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও কর্মীদের নির্বিঘেœ ঘটনাস্থলে পৌঁছানো নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। 
শুধু জায়গা দখল নয়, এসব অনিয়মের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে অশোভন আচরণের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে বাজারের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। এতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সামনে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন তারা। বাজারের ফায়ার রোড ও বাজার ফান্ডের জায়গা দখলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও কার্যকর উচ্ছেদ এবং নিয়মিত তদারকির দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষা ও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বরত ব্যক্তিদের আরো সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। 
মাইনীমুখ বাজারের চৌধুরী দেব কুমার চাকমার ভাষ্য, বাজার ফান্ডের আওতায় মোট ২৫টি ফায়ার রোড রয়েছে। কিন্তু দখলের কারণে সেগুলোর অনেকগুলোই এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। কাঁচাবাজারের পূর্ব পাশ, রুটি ঘাট, মধ্যবাজারে করিম স্টোরের পাশ এবং গরুর বাজারের উত্তর পাশসহ বিভিন্ন স্থানে ফায়ার রোড দখল হয়ে গেছে। এসব অবৈধ স্থাপনা দ্রুত অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হবে। 
বাজার কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনামতে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের কথা রয়েছে। তবে তার নিজের দোকানের পাশের ফায়ার রোড দখলের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বাজার কমিটির সভাপতির ছেলে ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সাথে চরম অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের েেত্র এমন আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। 
বাজারের ফায়ার রোড দখলের বিষয়টি কেবল চলাচলের প্রতিবন্ধকতা নয়, এটি অগ্নিনিরাপত্তার জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ। লংগদু ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন বলেন, মাইনী বাজারে এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অবৈধ দখলের কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছাতে মারাত্মক সমস্যা হয়। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণে বিলম্বের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের তির আশঙ্কা তৈরি হয়। তিনি আরো বলেন, বাজার ফান্ড কর্তৃপক্ষ দ্রুত এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম সহজ হবে এবং বাজারের ব্যবসায়ীসহ সবার জন্যই তা কল্যাণকর হবে।

Advertisement