জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বছর পার ক্ষমতার রাজনীতিতে আটকা সংস্কার

কাওসার আজম

Advertisement
  •  গণভোটের রায় কার্যকর নিয়ে অনিশ্চয়তা
  •  ক্ষমতার ভারসাম্য ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় অচলাবস্থা
  •  সংস্কার পদ্ধতি নিয়ে বিরোধ, রাজপথে বিরোধী জোট

 

রাষ্ট্রের নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা সীমিত করা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দেয়ার অঙ্গীকার নিয়ে স্বাক্ষরিত হয়েছিল জুলাই জাতীয় সনদ। কিন্তু এক বছর পার হলেও সে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। জাতীয় নির্বাচনের সাথে অনুষ্ঠিত গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোট পড়লেও গঠিত হয়নি সংবিধান সংস্কার পরিষদ। কার্যকর হয়নি গণভোটে অনুমোদিত ৩৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবও। উল্টো সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের মিত্রদের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেয়া গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সংস্কার উদ্যোগ বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় রাষ্ট্র সংস্কারের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সরকার বলছে, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন করা হবে; বিরোধীদের দাবি, গণভোটের রায় অনুযায়ী নির্ধারিত পদ্ধতিতেই সংস্কার করতে হবে। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৈরি রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা এখন ক্ষমতার রাজনীতিতে আটকে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে রাজনৈতিকদলগুলো জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করে। দীর্ঘ সংলাপ ও দর-কষাকষির মধ্য দিয়ে তৈরি এ সনদকে রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথরেখা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পার হলেও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য, আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধ এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক অবস্থানকে এর প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সনদে ৮৪ দফা, গণভোটে অনুমোদন ৩৮ প্রস্তাবের
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনার পর প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্র সংস্কারের ৮৪টি দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত এবং বাকি ৩৬টি আইন, অধ্যাদেশ, বিধি বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়। সনদ বাস্তবায়নের জন্য ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। একই দিনে গণভোট অধ্যাদেশ জারির পথও তৈরি হয়। আদেশ অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট হওয়ার কথা ছিল। জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেয়ার বিধান রাখা হয়।
পরিষদের মাধ্যমে ভোটের অনুপাতে ১০০ আসনের সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত আটটি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের কথা ছিল। পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরুর দিন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান-সম্পর্কিত বিষয় নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতাও নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ ক্যালেন্ডার দিনের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের বিধান ছিল।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোট সংবিধান সংস্কারের পক্ষে পড়ে। সংশ্লিষ্ট হিসাবে, সনদের ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবের মধ্যে ৩৮টি বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতাসহ অনুমোদিত হয়। কিন্তু গণভোটের আট মাস পরও এসব প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত না হওয়ায় নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শুরুর প্রশ্নটিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করে। কমিশন বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশ নিয়ে ৩৩টি দল ও জোটের সাথে ৭২টি বৈঠক করে। সনদে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দল স্বাক্ষর করে। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ২৪টি দল অংশ নেয়। নির্বাচনের পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সনদে স্বাক্ষর করলে সম্মতি জানানো দলের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫। তবে বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি পরিবর্তনের প্রশ্নে সিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ সনদে স্বাক্ষর করেনি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সনদে ঐকমত্য ও ভিন্নমতসহ ৮৬টি সুপারিশের হিসাব উল্লেখ করেছে।
সংস্কার পদ্ধতি নিয়ে বিরোধ, রাজপথে বিরোধী জোট
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় বিরোধ তৈরি হয়েছে সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ গ্রহণ এবং সংস্কারের আইনি পদ্ধতি নিয়ে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেয়া বাধ্যতামূলক ছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলের সদস্যরা দ্বিতীয় শপথ নিলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এতে গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনাই বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছে বিরোধী জোট।
বিএনপি সরকারের বক্তব্য, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ১৭ সদস্যের সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কমিটিতে বিরোধী দল থেকে পাঁচজনের নাম চাওয়া হলেও তারা সাড়া দেয়নি। বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই সংবিধান সংশোধন কমিটি ইতোমধ্যে সাতটি বৈঠক সম্পন্ন করেছে।
বিরোধী জোটের দাবি, গণভোটে জনগণ যেভাবে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে। সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ার নামে গণভোটে অনুমোদিত সংস্কারের মূল কাঠামো পরিবর্তনের সুযোগ দেয়া যাবে না। এ নিয়ে সংসদে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বাগি¦তণ্ডা হয়েছে। বিরোধী দলগুলো বিভাগীয় পর্যায়ে লং মার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। দাবি পূরণ না হলে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ থেকে চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন নেতারা।
সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সংলাপের সময় রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বিমত ছিল না। তার মতে, সনদটি স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জনগণের চুক্তিপত্র হিসেবে প্রণীত হয়েছে এবং গণভোটে জনগণও তাতে সম্মতি দিয়েছে। ফলে চুক্তিটি বাস্তবায়ন করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত সংস্কারে ঐকমত্য হলেও পরে তা বাতিল করা হয়েছে। এটিকে সংস্কারের আকাক্সক্ষা থেকে সরে যাওয়ার শামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
থমকে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ
জুলাই সনদে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাহী, বিচার ও আইন বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ পরবর্তী সময়ে টেকেনি।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ কাউন্সিল-সংক্রান্ত সংস্কারের অন্যতম উদাহরণ। বিচারক নিয়োগ কাউন্সিলের মাধ্যমে ২০২৫ সালে বিচারপতি নিয়োগও হয়েছিল। সনদে কাউন্সিলকে কমিশনে রূপান্তরের প্রস্তাব ছিল। সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না করে এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও গত এপ্রিলে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় কাউন্সিল বিলুপ্ত হয়। পুলিশ কমিশন গঠনের উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি।
সনদে আপিল বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। বর্তমানে সেখানে পাঁচজন বিচারপতি রয়েছেন; একসময় এ সংখ্যা ছিল ১৭। এ প্রস্তাবে কোনো নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত না থাকলেও তা কার্যকর হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কমাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, ন্যায়পাল এবং সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার আগের মতোই নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে পিএসসি ও দুদকে নিয়োগ দিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও পরিবর্তনের প্রস্তাব ছিল। সনদে নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের সংসদ সদস্যদের গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে সব দল একমত হয়েছিল। উচ্চকক্ষ গঠিত হয়নি। গত ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছে প্রকাশ্য ব্যালটে।
এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান-সদস্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান-সদস্য নিয়োগের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই রাষ্ট্রপতির হাতে দেয়ার প্রস্তাব ছিল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নিয়োগ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেয়ার বিষয়ে বিএনপির আপত্তি রয়েছে।
সনদে একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার প্রস্তাবও রয়েছে। এটি কার্যকর করতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। ভোটের অনুপাতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তবে সরকারের গঠিত বিশেষ কমিটি বিএনপির ৩১ দফা অনুযায়ী সংসদে আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা জানিয়েছে। ফলে উচ্চকক্ষের গঠনপদ্ধতি নিয়েও সনদের প্রস্তাব ও ক্ষমতাসীন দলের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়েও সংশয়
জুলাই সনদ অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদপূর্তির ১৫ দিন আগে অথবা মেয়াদ শেষ হওয়ার বাইরে অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে গেলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। ওই সরকারের মেয়াদ হবে ৯০ দিন এবং তার অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, বিরোধী দল থেকে মনোনীত ডেপুটি স্পিকার এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধিকে নিয়ে বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়। তবে প্রধান উপদেষ্টা বাছাইয়ের একটি ধাপে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বলেছিল, পরবর্তী সংসদে বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।
বিরোধী দলগুলোর আশঙ্কা, সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপদ্ধতিতে এমন পরিবর্তন আনা হতে পারে, যাতে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, গণভোটে জনগণ বিএনপির আপত্তি নাকচ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। অথচ বিশেষ কমিটির মাধ্যমে এ ব্যবস্থার গঠনপদ্ধতি পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।
সরকারের সংবিধান সংশোধন কমিটি আগামী জানুয়ারিতে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার কথা জানিয়েছে। এরপর সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপিত হতে পারে। প্রস্তাবনা এবং সংবিধানের ৮, ৪৮, ৫৬, ৫৮ ও ১৪২ অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের কারণে বিলটি পাসের পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে আবার গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সরকার বলছে বাস্তবায়ন হবে, বিরোধীদের অভিযোগ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গত ১০ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে বলেন, বিএনপি জুলাই সনদকে ইতিবাচকভাবে দেখে। রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের আগেই সনদ নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সরকার সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষক, সাংবাদিক, জুলাই যোদ্ধাসহ বিভিন্ন অংশীজনের সাথে মতবিনিময় চলছে।
অন্য দিকে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও বিএনপি এখন সনদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, সনদ বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। দাবি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পূরণ না হলে রাজপথেই ফয়সালা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদের অভিযোগ, ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে জবাবদিহিহীন সরকার ও অতিরিক্ত ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রীর পুরনো ব্যবস্থা বহাল রাখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মনে করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির বড় রাজনৈতিক দায় রয়েছে। গণতান্ত্রিক উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে সনদ বাস্তবায়নে দলটির পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, বিএনপি নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে সংবিধান সংশোধনের পাশাপাশি সংস্কারের অন্য পথও বিবেচনা করতে পারত।