
- ঋণের চাপ ও ডিজিটাল ঝুঁকি
- তদারকি জোরদারের তাগিদ আইএমএফের
ঋণ পরিশোধের বাড়তি চাপ এবং ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি- দুই দিক থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। এক দিকে মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের কারণে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর রাজস্বের বড় অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ সঙ্কুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অন্য দিকে ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তার, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) সাইবার হামলার ঝুঁকি আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশের সীমিত রাজস্ব আহরণ, বিপুল উন্নয়ন চাহিদা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আর্থিক ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে এ দুই চ্যালেঞ্জ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক আলোচনা ও মূল্যায়নে ঋণ ব্যবস্থাপনা, সহজ শর্তে অর্থায়ন, আর্থিক খাতের কার্যকর তদারকি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এসব আলোচনার মূল তাৎপর্য হলো, শুধু নতুন ঋণ সংগ্রহ কিংবা ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তার নয়; বরং অর্থের কার্যকর ব্যবহার, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলার প্রস্তুতিও নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল শনিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনের ষষ্ঠ দিনের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ঋণ পরিশোধের চাপ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে কথা বলেন আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। ব্রিফিংয়ে সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান উপস্থিত ছিলেন। এটি সঞ্চালনা করেন আইএমএফের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক জুলি কোজাক।
জর্জিয়েভা জানান, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর রাজস্ব আয়ের যে অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়, তা গত কয়েক বছরে ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের কারণে ঋণের বোঝা বাড়ায় এসব দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়ছে। ঋণ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেয়ার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।
রাজস্বের দুর্বলতায় বাড়ছে উন্নয়ন ব্যয়ের ঝুঁকি
বাংলাদেশের জন্য এ পরিস্থিতি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের উন্নয়ন চাহিদা ব্যাপক হলেও রাজস্ব আহরণ বাড়ানো দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ। রাজস্ব আয়ের তুলনায় সরকারি ব্যয়ের প্রয়োজন বেশি হলে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ে। অন্য দিকে ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হলে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, চলমান প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সামাজিক খাতে বরাদ্দ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো খাতে সরকারি ব্যয় দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য। এসব খাতে বরাদ্দ কমে গেলে তার প্রভাব শুধু চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকে না; মানবসম্পদ উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বিনিময় হারের ওঠানামাও গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলে একই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ পরিশোধে বেশি টাকা প্রয়োজন হয়। আন্তর্জাতিক সুদের হার, জ্বালানির দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও ঋণ ব্যবস্থাপনার ব্যয় বাড়াতে পারে। ফলে ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি এর সুদের হার, মেয়াদ, পরিশোধের শর্ত এবং অর্থ ব্যবহারের কার্যকারিতা বিবেচনায় নেয়া জরুরি।
এ পরিস্থিতিতে ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার, প্রকল্পের ব্যয় ও সময় নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ। যেসব প্রকল্প থেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল বেশি পাওয়া সম্ভব, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সাথে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি ও অপচয় কমাতে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সহজ শর্তে ঋণ ও দ্রুত পুনর্গঠনে গুরুত্ব
জর্জিয়েভা বলেন, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর মানুষের জন্য মূল্যস্ফীতি একধরনের করের মতো। মানুষ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি চায়। এ জন্য সরকারের সুস্পষ্ট নীতি গ্রহণের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
তিনি জানান, দারিদ্র্য হ্রাস ও প্রবৃদ্ধি সহায়তা তহবিলের (পিআরজিটি) আওতায় সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার সক্ষমতা আগের তুলনায় তিন গুণের বেশি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দেশগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত অর্থায়নের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো বলেন, যেসব দেশের ঋণ পুনর্গঠন প্রয়োজন, তাদের ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে জি-২০-এর কমন ফ্রেমওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্য দিকে যেসব দেশের ঋণ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই, কিন্তু তাৎক্ষণিক অর্থসঙ্কট রয়েছে, তাদের রাজস্ব আহরণ বাড়ানো ও বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা দেয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের জন্য এসব উদ্যোগের সুফল নির্ভর করবে অর্থায়নের শর্ত, প্রয়োজন এবং অর্থ ব্যবহারের সক্ষমতার ওপর। সহজ শর্তের ঋণ তুলনামূলক কম ব্যয়ে উন্নয়ন চাহিদা মেটাতে সহায়ক হতে পারে। তবে নতুন ঋণ নেয়ার আগে প্রকল্পের সম্ভাব্য আয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ ঋণ পরিশোধের দায় বিবেচনায় নেয়া জরুরি। পাশাপাশি করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি কমানো এবং রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে।
ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাড়ছে সাইবার ঝুঁকি
ঋণ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আর্থিক খাতের প্রযুক্তিগত ঝুঁকিও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মোবাইল আর্থিক সেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং ও অনলাইন লেনদেনের বিস্তার আর্থিক সেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়াচ্ছে। তবে এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার হামলা, তথ্য চুরি, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং একটি প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা।
ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তি, পেমেন্ট ব্যবস্থা ও বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত। ফলে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিগত বিপর্যয় বা সাইবার হামলা হলে তার প্রভাব অন্য প্রতিষ্ঠানেও পড়তে পারে। এতে লেনদেন ব্যাহত হওয়া, গ্রাহকের অর্থ ও তথ্যের নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়া এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় আরো জটিল ও লক্ষ্যভিত্তিক সাইবার হামলা চালানোর সম্ভাবনা এ ঝুঁকিকে বাড়িয়ে তুলছে।
গতকাল শনিবার ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আইএমএফের ‘ফিউচার অব ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে এসব ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়। সেমিনারে গ্রিসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ক্রিস্টিনা পাপাকনস্টান্টিনু এআই-সংশ্লিষ্ট সাইবার ঝুঁকি মোকাবেলায় সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দেন। আইএমএফের ডেপুটি ডিরেক্টর মিকেলা এরবেনোভা বলেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার সাথে সাথে আর্থিক ব্যবস্থার পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও প্রযুক্তিগত দুর্বলতা থেকে নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই আগেভাগে ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করা জরুরি।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর তাৎপর্য হলো, ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সাইবার নিরাপত্তা ও তদারকির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল সেবাদাতাদের তথ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা পরীক্ষা, ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং সাইবার হামলার পর দ্রুত সেবা পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সাথে গ্রাহকের তথ্য ব্যবহারে স্বচ্ছতা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং আর্থিক প্রতারণার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ
আর্থিক খাতের ঝুঁকি মূল্যায়নে আইএমএফের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম (এফএসএপি)। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চালু থাকা এ কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের আর্থিক ব্যবস্থার দুর্বলতা, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সঙ্কট মোকাবেলার প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা হয়।
দ্রুত পরিবর্তনশীল আর্থিক ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রাখতে ২০২৬ সালের এফএসএপি পর্যালোচনায় ঝুঁকিভিত্তিক ও প্রয়োজননির্ভর মূল্যায়ন, আর্থিক ব্যবস্থার আন্তঃসংযোগজনিত ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং সুপারিশ বাস্তবায়নকে আরো কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এ ধরনের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক খাতে শুধু প্রচলিত ঋণঝুঁকি কিংবা মূলধনের পর্যাপ্ততা যাচাই করলেই চলবে না; প্রযুক্তিগত ঝুঁকি, তথ্যের নিরাপত্তা, ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং সঙ্কটের সময় এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় নিতে হবে।
এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং ঝুঁকির পূর্বাভাস দেয়ার সক্ষমতা উন্নত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের পাশাপাশি বাংলাদেশের আর্থিক খাতের বাস্তবতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সমন্বিত নীতি প্রয়োজন
বাংলাদেশের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো উন্নয়ন ব্যয়ের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বজায় রাখা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখা। এ জন্য এক দিকে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, ঋণের অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার, প্রকল্প ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ রক্ষা করতে হবে। অন্য দিকে ডিজিটাল আর্থিক সেবায় নিরাপত্তা, জবাবদিহি ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে নীতিসহায়তা দেয়াও প্রয়োজন। উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়লে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হয়, যা রাজস্ব আহরণের ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।
সবমিলিয়ে, ঋণ পরিশোধের চাপ ও ডিজিটাল আর্থিক ঝুঁকি পৃথক বিষয় হলেও উভয়ের প্রভাব অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ঋণের বোঝা সামলাতে ব্যর্থ হলে উন্নয়ন ব্যয় সঙ্কুচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্য দিকে আর্থিক খাতের প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা থাকলে লেনদেন, বিনিয়োগ ও গ্রাহকের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন এমন সমন্বিত নীতি, যা ঋণের টেকসই ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন ব্যয়ের কার্যকারিতা এবং নিরাপদ ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থা- তিনটিই নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








