
আশরাফুল ইসলাম, ব্যাংকক থেকে
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন পূর্বাভাস উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, এ বছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। একই সাথে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। অথচ সরকারের বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আইএমএফের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
তবে আইএমএফের পূর্বাভাস নিয়ে বিতর্কে যেতে চায় না সরকার। বাজেটে নির্ধারিত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা কারো পূর্বাভাস নিয়ে বিতর্কে যেতে চাই না। তারা তাদের হিসাব দিয়েছে, আর আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।’
মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, কয়েক মাসের ব্যবধানে দেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে সংস্থাটির প্রত্যাশা কমেছে, অন্য দিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ে আশঙ্কা বেড়েছে। অর্থনীতির এই দুই সূচকের বিপরীতমুখী গতিপথ সরকারের সামনে বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
কমছে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস
আইএমএফ গত এপ্রিলে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। জুলাইয়ে তা কমিয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ পূর্বাভাসে আরো কমিয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এপ্রিলের তুলনায় প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমেছে ১ দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট।
প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে এই ধারাবাহিক নি¤œমুখী পরিবর্তন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। কারণ, প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কম হলে বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ব্যবসা সম্প্রসারণের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে শুধু পূর্বাভাস কমার ভিত্তিতে অর্থনীতির দুর্বলতার জন্য নির্দিষ্ট কোনো কারণকে দায়ী করা যায় না। এ জন্য বিনিয়োগ, শিল্পোৎপাদন, রফতানি, ঋণপ্রবাহ, রাজস্ব আদায় ও কর্মসংস্থানের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস ৪ শতাংশ। অর্থাৎ তিনটি সংস্থাই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গতি নিয়ে সতর্কতার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে পূর্বাভাসগুলোর মধ্যে আইএমএফের হিসাব সবচেয়ে কম।
আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। নতুন পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরো কমবে। এতে অর্থনীতির গতি বাড়ানোর জন্য সরকারকে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে বড় উদ্বেগ
প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও অর্থনীতির জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। গত এপ্রিলে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছিল আইএমএফ। নতুন পূর্বাভাসে তা বাড়িয়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ আগের পূর্বাভাসের তুলনায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।
মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় উচ্চপর্যায়ে থাকলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। আয় একই হারে না বাড়লে খাদ্য, পরিবহন, বাসস্থান, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে পরিবারগুলোকে বেশি অর্থ খরচ করতে হয়। এতে সঞ্চয় কমে এবং অন্যান্য খাতে ব্যয় সঙ্কুচিত হয়।
বিশেষ করে নি¤œ ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা মূল্যস্ফীতির চাপে বেশি পড়েন। পরিবারের আয়ের বড় অংশ খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়ে গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের সুযোগ কমে যায়। অন্য দিকে উৎপাদন উপকরণ, পরিবহন ও জ্বালানির ব্যয় বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যায়। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যমূল্য ও বাজার চাহিদায় পড়তে পারে।
তবে আইএমএফের ১০ দশমিক ৯ শতাংশের পূর্বাভাসকে বাস্তব মূল্যস্ফীতির চূড়ান্ত হিসাব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি চলতি অর্থবছরের গড় মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে সংস্থাটির পূর্বাভাস। প্রকৃত হার নির্ভর করবে খাদ্য ও জ্বালানির দাম, বিনিময় হার, সরবরাহব্যবস্থা, মুদ্রানীতি এবং সরকারের রাজস্ব ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার ওপর।
দক্ষিণ এশিয়ায় পিছিয়ে বাংলাদেশ
আঞ্চলিক অর্থনীতির সাথে তুলনা করলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের দুর্বলতা আরো স্পষ্ট হয়। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ এবং ভুটানের ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। বিপরীতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে সীমিত থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে দেশগুলোর অর্থনৈতিক কাঠামো, জনসংখ্যা, উৎপাদনব্যবস্থা, বিনিয়োগের ধরন ও নীতিগত পরিস্থিতি এক নয়। ফলে শুধু প্রবৃদ্ধির হার দিয়ে কোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা যায় না। তারপরও বাংলাদেশের তুলনামূলক কম প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগের গতি, শিল্পের উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সরবরাহ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি না হলে উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে। একই সাথে রাজস্ব আয় বাড়ানো ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা কতটা বাস্তবসম্মত
সরকারের বাজেটে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য এবং আইএমএফের ৩ দশমিক ২ শতাংশ পূর্বাভাসের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। এই ব্যবধান অর্থনীতির সম্ভাবনা সম্পর্কে সরকারের প্রত্যাশা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরছে।
অর্থমন্ত্রী অবশ্য আইএমএফের পূর্বাভাস নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে সরকারের কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। বাজেটের লক্ষ্য অর্জনে সরকারের আশাবাদ থাকলেও সেটি বাস্তবে রূপ দিতে হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানোর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের জন্য শিল্প ও সেবা খাতে উৎপাদন বাড়ানো, নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসা পরিচালনার বাধা কমানো প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা, ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, রাজস্ব আদায়ের ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং সরকারি প্রকল্পের ব্যয়ে দক্ষতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বাজেটে উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেই প্রবৃদ্ধি বাড়বে না; বাস্তব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন থাকতে হবে।
অন্য দিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, অযৌক্তিক মধ্যস্বত্বভোগী ব্যয় কমানো এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সাথে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা জরুরি, যাতে মূল্যস্ফীতি কমানোর উদ্যোগ উৎপাদন ও বিনিয়োগকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাধাগ্রস্ত না করে।
বিশ্বব্যাংকের সাথে আলোচনা অব্যাহত
ব্যাংককে চলমান আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার মধ্যেই নতুন পূর্বাভাস প্রকাশিত হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার কর্মসূচি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অর্থায়ন পাওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সোমবার বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টের সাথে এবং মঙ্গলবার সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে তার বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠককে আগের আলোচনার ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আগের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থনৈতিক সঙ্কট, অতীতের দায়দেনার বোঝা এবং বৈশ্বিক সঙ্ঘাতের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার যে নীতি গ্রহণ করেছে, বিশ্বব্যাংক তার প্রশংসা করেছে। সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কর্মসূচির সাথেও সংস্থাটি একমত এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।
তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিশ্বব্যাংকের সাথে আলোচনা কয়েক মাস ধরে চলতে পারে। এ পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আশা করা ঠিক হবে না। ঢাকায় ফিরে আলোচনা আরো এগিয়ে নেয়া হবে।
নতুন ঋণসহায়তার দিকে নজর
বাংলাদেশ ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুমোদিত এ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ পাঁচ কিস্তিতে এখন পর্যন্ত ৩৮০ কোটি ডলার পেয়েছে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঋণ কর্মসূচির পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়েছিল।
চলতি বছরের মে মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগেই আগের কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে নতুন ঋণসহায়তার জন্য আইএমএফের কাছে আবেদন করে বাংলাদেশ। গত ৩ জুন সংস্থাটির বাংলাদেশ মিশনপ্রধান আইভো ক্রজনারের এক বিবৃতিতে নতুন সহায়তার জন্য আবেদনের বিষয়টি জানানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়ার ঝুঁকি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগ। এ পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, সরকারি অর্থায়নের চাহিদা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে ঋণসহায়তা পেলেই অর্থনীতির কাক্সিক্ষত পুনরুদ্ধার নিশ্চিত হবে না। ঋণের অর্থ কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, রাজস্ব আয় কতটা বাড়ছে, বিনিয়োগের পরিবেশ কতটা উন্নত হচ্ছে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কী অগ্রগতি হচ্ছে- এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সামনে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ
আইএমএফের নতুন পূর্বাভাস বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে দু’টি বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে- প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। একদিকে প্রবৃদ্ধি কমে গেলে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্য দিকে মূল্যস্ফীতি বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বেড়ে যেতে পারে।
সরকার বাজেটের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে আশাবাদী হলেও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ, সংস্কারের অগ্রগতি এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি অপরিহার্য। একই সাথে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
শেষ পর্যন্ত আইএমএফের পূর্বাভাসের সাথে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার ব্যবধান কতটা কমানো যাবে, তা নির্ভর করবে বাস্তব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর। প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি কমানোর ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করতে পারলেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ কমানোর পথ তৈরি হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








