ইউএইর যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সাথে জাইকার চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ জুনকো তাকাহাশির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেন।


বাংলাদেশের লবণাক্ত পানিকে সুপেয় পানিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সাথে যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সাথে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লা আলি খাসিইফ আবদুল্লা আলহুমুদির সাথে সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রস্তাব দেন। 
বৈঠকে দেশের ভবিষ্যৎ পানি নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে ভবিষ্যতে বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের লবণাক্ত পানিকে সুপেয় পানিতে রূপান্তরের জন্য ইউএইর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এ লক্ষ্যে কক্সবাজারে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে পরীক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দেন মন্ত্রী।
বাংলাদেশে আরব আমিরাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বড় অঙ্কের প্রাথমিক বিনিয়োগ করা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা কঠিন। তবে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে এলে এবং বিনিয়োগের অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধের সুযোগ থাকলে তা বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক  হবে। এর আগে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো রাষ্ট্রদূতের সামনে তুলে ধরেন মন্ত্রী।
রাষ্ট্রদূত জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উন্নয়নে বাংলাদেশী কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দেশটির শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় দক্ষ জনশক্তি রফতানির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন। এ ছাড়া ইউএই থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা উন্নতমানের লাইমস্টোনের ওপর কর কমিয়ে আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইকোনমিস্ট অ্যানালিস্ট শাহমিনা ইশা মান্নান, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়–য়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাইকা প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাৎ
জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যথাযথভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে সর্বাধিক মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারেন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ জুনকো তাকাহাশির সাথে বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাইকার চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার জন্য তিনি জাইকাকে ধন্যবাদ জানান। একই সাথে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী মেট্রোরেল প্রকল্পের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, মেট্রোরেল টঙ্গী বা জয়দেবপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা গেলে আরো বেশি মানুষ এ সেবার সুফল ভোগ করতে পারত। হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও আরো সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে জাইকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাথে কমিউনিটি সেবা, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, আঞ্চলিক উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও হাওর অঞ্চলের উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের আশ্বাস দেন জাইকার চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) সাথে বাস্তবায়নাধীন ‘টৎনধহ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ধহফ ঈরঃু এড়াবৎহধহপব চৎড়লবপঃ (টউঈএচ)’ এবং ‘ঝড়ঁঃযবৎহ ঈযধঃঃড়মৎধস জবমরড়হধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ চৎড়লবপঃ (ঝঈজউচ)’-এর অগ্রগতি বৈঠকে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে দেশের সব উপজেলায় গৃহীতব্য ‘টঢ়ধুরষধ এড়াবৎহধহপব ধহফ উবাবষড়ঢ়সবহঃ চৎড়লবপঃ চযধংব-ওও (টএউচ-ওও)’-এর কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়।
বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সাথে সমন্বয় জোরদার এবং উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া আরো কার্যকর করতে দাতা সংস্থার প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। কমিটি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে কাজ করবে।
বৈঠকে জাইকার সিনিয়র রিপ্রেজেনটেটিভ মরিকাওয়া ইয়োকো, লোকাল গভর্নেন্স উপদেষ্টা আকিরা মুনাকাতা, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়–য়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি।

Advertisement