
মিডলইস্ট মনিটর
গাজায় বাসিন্দাদের সরিয়ে না নিয়েই জনবসতিপূর্ণ ভবন ও ঘরবাড়িতে ভারী বোমা হামলার নির্দেশ পেয়েছিলেন ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের চার সেনা। তাদের ভাষ্য, এসব হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন। সোমবার ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তারা এ কথা জানান।
গাজায় হামলার আগে বেসামরিক লোকজনকে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেয়া হয় বলে বারবার দাবি করে আসছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেও এ দাবি করেছেন। কিন্তু চার সেনার বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। তাদের ভাষ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর হামলার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। সে সময় গাজায় প্রায় ২৪ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করতেন। হামাসের সামরিক শাখার সদস্য ও কমান্ডারদের অবস্থান শনাক্ত করার দায়িত্বে ছিলেন ‘এ’ নামে পরিচিত এক গোয়েন্দা সেনা। পূর্ণ পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এই সেনা বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে হামাস ও তাদের সামরিক শাখা সম্পর্কে আমাদের প্রায় কিছুই জানা ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের সদস্য ও যোদ্ধারা কোথায় আছে, তা শনাক্ত করার কাজ আমরা প্রায় শূন্য থেকে শুরু করি।’
ওই সেনার ভাষ্য, এরপর হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের নিয়ম দ্রুত শিথিল করা হয়। একই সাথে কতটা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হবে এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকির তুলনায় হামলার গুরুত্ব কতটা- সেই বিবেচনাতেও বড় পরিবর্তন আসে। যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু বা আহত হওয়াকে ‘পার্শ্বক্ষয়ক্ষতি’ হিসেবে মেনে নেয়ার ক্ষেত্রেও নীতি অনেক বেশি শিথিল করা হয়। হারেৎজ বলেছে, চার সেনার বক্তব্যে যুদ্ধ পরিচালনার এমন একটি চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে ছোট লক্ষ্যবস্তুকে হত্যা করতেও বড় ধরনের হামলা চালানো হতো। এতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও তা হামলা চালানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াত না।
পত্রিকাটির ভাষ্য, সামরিক বাহিনীর হিসাবে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের মৃত্যু শুধু ভুল বা লক্ষ্যবস্তু শনাক্তে ব্যর্থতার ফল ছিল না। বরং সর্বোচ্চ মাত্রায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের নীতিও এসব প্রাণহানির কারণ ছিল। হারেৎজ আরো জানায়, যুদ্ধের তিন বছর ধরে একই ধরনের বিবরণ পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের গোয়েন্দা ব্যর্থতার ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ক্ষেত্রে নজিরবিহীন সহনশীলতা তৈরি করেছিল। এর একটি উদাহরণ উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর ইসরাইলি বিমান হামলা। একটি বড় আবাসিক ভবনসমষ্টিতে চালানো ওই হামলার ঘোষিত লক্ষ্যে ছিলেন জাবালিয়ায় হামাসের একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার ইব্রাহিম বিয়ারি।
‘ডি’ নামে পরিচয় গোপন রাখা এক সেনা বলেন, ‘আমরা জানতাম, বিয়ারি বড় বড় ভবনের নিচে ভূগর্ভে অবস্থান করছেন। কিন্তু ঠিক কোন ভবনের নিচে, তা জানতাম না।’ তিনি বলেন, ‘তাই তারা এমন ভবন বেছে নেয়, যেগুলোতে তখনো মানুষ বসবাস করছিল। এরপর বিয়ারি যে সুড়ঙ্গে ছিলেন, তার ওপরের সব ভবন ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তাকে পালানোর সুযোগ না দিয়ে হত্যা করা জরুরি মনে করায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হয়নি।’
অভিযানে অংশ নেয়া ‘এ’ বলেন, হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানতেন, এতে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








