নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সচিবালয়ে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রুণদ্বীপ সারাই সাক্ষাৎ করেন : পিআইডি।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

Advertisement

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার। একই সাথে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জ্বালানি, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে কানাডার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিজের নির্বাচনী এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় এবং কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সাথে পৃথক বৈঠকে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর তাদের কল্যাণে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোয় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’
মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ  করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে তার মুসলমান কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’
মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে তারা ভুল করেননি বলেও মন্তব্য করেন। সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তারা। এ সময় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্তসহ ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গুরুত্ব
সোমবার সচিবালয়ে কানাডার প্রতিমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ ও কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। এতে দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ছে। সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন জরুরি। কানাডার প্রতিমন্ত্রীও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
বৈঠকে তেল ও তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, নার্সিং প্রশিক্ষণ এবং ডাল ও তৈলবীজের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার-বীজসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং কৃষকদের তথ্যভাণ্ডার তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাদ্য ভর্তুকি ও নগদ সহায়তা কর্মসূচি সমন্বয়ের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড যুক্ত করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব। সামাজিক সুরক্ষার পাশাপাশি আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে মানুষকে স্বনির্ভর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়। কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে দেশটি এক হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহও প্রকাশ করে কানাডা।
বৈঠকের শেষে প্রধানমন্ত্রীকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণ জানান রণদীপ সরাই। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিংসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।