গার্মেন্টস, আন্দোলন
বিভিন্ন স্থানে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। নয়া দিগন্ত

তৈরি পোশাক শ্রমিকদের চলমান অসন্তোষে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

তাদের অনেকেই প্রকৃত শ্রমিক না হয়েও ছদ্মবেশে শ্রমিকদের মধ্যে মিশে গিয়ে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য সহিংসতা চালাচ্ছে। তাদের উসকানিতেই রাজধানীজুড়ে কয়েকদিন ধরে তাণ্ডব চালানো হচ্ছে বলেও পুলিশ জানায়। 

শ্রমিক আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে।   

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বাসস’কে জানান, এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টায় যুক্ত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

পাশাপাশি ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে থাকা কয়েকজনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া পোস্টও নজরে এসেছে প্রশাসনের। তাদেরই একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজবুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

তিনি আন্দোলনের নানা ছবি ও ভিডিও নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাজীপুরে এক যুবক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যাকে একনজর দেখেই অনেকে অনুমান করছেন, তিনি সাধারণ শ্রমিক নন।

সাজবুল ইসলাম নামে ওই যুবকের ফেসবুক পেজ ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী এবং সংগঠনটির জবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।  

শ্রমিকদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার ইতোমধ্যে সর্বনিম্ন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে এই পদক্ষেপের পরও দেশের কিছু স্থানে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে।

বাসসের সাথে আলাপকালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি) গাজী জসিম উদ্দিন শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে তৃতীয় পক্ষের উসকানির বিষয়টি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে সর্বনিম্ন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। কিন্তু এই পদক্ষেপ নেয়ার পরও কিছু শ্রমিক অসৎ উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে পোশাক শ্রমিকরা আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শ্রমিকরা বিশেষ করে ঢাকা, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় নেমে সহিংস বিক্ষোভ পরিচালনা করেন।

রোববার পল্লবীতে আন্দোলনরত শ্রমিকরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া গাজীপুরে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের প্রধান গাজী জসিম উদ্দিন জানান, কারখানাগুলো হামলা থেকে বাঁচাতে এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের সুরক্ষায় তারা সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন এবং সর্বনিম্ন শক্তি প্রয়োগ করেছেন।

মিরপুর এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে সহিংসতা শুরু করলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হয়।

সূত্র : বাসস