মহাসড়কে পশুবাহী অবৈধ যানে দীর্ঘ জট

 দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা 
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ডুগডুগি পশুর হাটে চরম অব্যবস্থাপনার কারণে মহাসড়কের যাত্রী ও পথচারীদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সপ্তাহের দুই দিন (সোমবার ও বৃহস্পতিবার) এ হাটে গরু বহনে ব্যবহৃত পাওয়ার ট্রলি, ভটভটি ও নছিমনসহ নানা অবৈধ যানবাহন চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কের ওপর রেখে দেয়ায় তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে মাত্র এক কিলোমিটার পথ পার হতে কখনো কখনো এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগছে। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকা থেকে পশুবাহী যানবাহন এসে সরাসরি মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে হাটের দিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যানজট লেগে থাকে। এতে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। চরম ঝুঁকিতে পড়ছে জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স। গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, হাটে ঢোকার অপেক্ষায় গরুভর্তি অসংখ্য যান মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। ফলে যানবাহন চলাচল একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে পড়ে। 
পথচারী হাসিবুল হক বলেন, হাটের দিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করাই দায়। এক কিলোমিটার পথ পার হতে এক ঘণ্টার বেশি সময় আটকে থাকতে হয়। দর্শনা থেকে চুয়াডাঙ্গায় কর্মস্থলে যাওয়া চাকরিজীবী আরিফুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়ে বের হয়েও যানজটের কারণে প্রতিদিন অফিসে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। এক স্কুলছাত্র রাকিব জানায়, দীর্ঘ জ্যামের কারণে তারা সময়মতো কাসে পৌঁছাতে পারে না।
অভিযোগ রয়েছে, মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ হলেও হাটের সামনে নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। ফলে হাটের ভেতরের জায়গা সঙ্কটের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। তবে হাটের ইজারাদার হাবিবুর রহমান শেখ বলেন, হাটের ভেতরে উন্নয়নকাজ চলায় জায়গা কিছুটা কমে গেছে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পশুবাহী গাড়ি সাময়িকভাবে রাস্তায় অবস্থান নেয়ায় যানজট হচ্ছে। তবে রাস্তার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকি চলছে। 
দামুড়হুদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রভাষ কুমার বসু জানান, প্রতিটি হাটে পুলিশ কাজ করে। যানজট বাড়লে তা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। দামুড়হুদা ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন বলেন, জনভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুতই ইজারাদারের সাথে কথা বলে মহাসড়কের যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Advertisement