নিয়োগবিধিতে নতুন শর্ত মাধ্যমিকে প্রশিক্ষণ ছাড়া শিক্ষক হওয়ার পথ বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক হতে হলে প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করে নিয়োগ বিধিতে নতুন শর্ত যুক্ত করা হচ্ছে। সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাকরি পাওয়ার পর নয়, বরং নিয়োগের আগেই  মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সূত্রমতে, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে অর্থাৎ শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) ‘প্রফেশনালাইজেশন ফর এনহ্যান্সড লার্নিং প্রজেক্ট’ নামের একটি প্রকল্পের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে। আনুমানিক ২৪৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটির পুরোটাই বৈদেশিক অনুদান হিসেবে পাওয়ার কথা রয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সম্ভাব্য বাস্তবায়নকালে এই বাজেটের বড় অংশ খরচ হবে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মেরামত এবং পেশাগত সেবা খাতে।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, শিক্ষকতা পেশায় ঢোকার আগে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও মানসিক প্রস্তুতি দরকার হলেও দেশে বর্তমানে এ ধরনের প্রাক-চাকরিকালীন প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই। তাই নতুন মডেলে প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট কার্যক্রম হিসেবে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে এই প্রশিক্ষণ চালু করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ‘শিক্ষক পেশাগতকরণ নির্দেশিকা’ ও ‘শিক্ষক পেশাগত উন্নয়ন কাঠামো’ প্রণয়নসহ বিদ্যমান ১০টি প্রশিক্ষণ কোর্স হালনাগাদ করা এবং নতুন আরো ১০টি কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক হবে নাকি অগ্রাধিকার পাবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ছাড়া প্রকল্পটির আওতায় ২০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসক এবং দেড় হাজার প্রধান শিক্ষককে চাকরিকালীন প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষাবিদরা এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোতেও শিক্ষকতায় প্রবেশের আগে এ ধরনের বিশেষ পড়ালেখা বা লাইসেন্স নেয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে দেশে এই ব্যবস্থা সফল করতে একটি সুস্পষ্ট ও সমন্বিত শিক্ষানীতির অধীনে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারও এই খাতের সংস্কারে আন্তরিক। সম্প্রতি বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন যে, শিক্ষকতাকে আর ১০টি সাধারণ চাকরির মতো উপায়হীন বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে যেন সেরা প্রার্থীরা শিক্ষকতাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিতে পারেন, সরকার সেভাবেই পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে সাজাচ্ছে।
প্রসঙ্গত দেশে বর্তমানে মোট দুই লাখ ৪৬ হাজার ৭৮৪ জন মাধ্যমিক শিক্ষক রয়েছেন, যার মধ্যে নারী ৭৩ হাজার ৪৯ জন। সরকারি স্কুলে পিএসসি এবং বেসরকারি স্কুলে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। 
বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।