
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর পল্লবী থানার রাষ্ট্রদ্রোহ ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার লেফটেন্যান্ট (অব:) কাজী গুলশান আরা ও কর্নেল (অব:) দেবাশীষের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ পাঁচ কারণ উল্লেখ করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পাঁচ কারণে বলা হয়েছে, সহযোগী আসামিদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান জানার জন্য; রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কাজে নিয়োজিত দেশী-বিদেশী পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত; ঘটনার সাথে জড়িত মেকন ডিজিটাল আলামতের সন্ধান; আসামিদের পরিচালনাকৃত রাষ্ট্রবিরোধী অন্য কোনো ওয়েবসাইট/পেইজ আছে কিনা তা জানার জন্য; মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং দেশ বিরোধী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন রোধ করার জন্য রিমান্ড প্রয়োজন। এর আগে গত রোববার রাতে রাজধানীর পল্লবীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার বড়–য়া ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরাকে গ্রেফতার করে ডিবি।
যে কারণে ২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) দেবাশীষ ও লেফটেন্যান্ট (অব:) কাজী গুলশান আরাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, গত রোববার রাতে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের পল্লবী জোনাল টিমের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন। বনানী ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে রাত আড়াইটার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ডিবি পুলিশের একজন পরিদর্শক বাদী হয়ে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রেফতারকৃত সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগীরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচার, তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের সাথে জড়িত। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ‘ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব:) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে আরো বলা হয়, ‘কালআজকাল ডটকম’ নামের একটি পেজের মাধ্যমে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কনটেন্ট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রচারের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
পুলিশের এজাহার অনুযায়ী, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে অবৈধ অর্থায়ন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর বিভিন্ন ধারায় অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া লেফটেন্যান্ট (অব:) কাজী গুলশান আরার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের আগে দেড়শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সাথে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ নামের একটি কমিটি গঠন এবং ওই সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে এজাহারে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








