দুনিয়াজুড়ে,  মার্কিন লক্ষ্যবস্তু, ইরানের নাগালে, নতুন করে হামলা , যুদ্ধ ছড়াবে, মধ্যপ্রাচ্যে, বাইরে,ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামনিয়া,
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামনিয়া। প্রেসটিভি

পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা, সরঞ্জাম, সেনাসদস্য ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে হামলা চালালে এবারের সংঘাত আর পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী।

Advertisement

ইরানের ইংরেজি নিউজ চ্যানেল রোববার (১ নভেম্বর) জানায়, শনিবার এক বক্তব্যে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামনিয়া এ হুঁশিয়ারি দেন। সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের সাথে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির এক বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও আলোচনা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আকরামনিয়া জানান, ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত শুরু হলে তা আগের যুদ্ধক্ষেত্রগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে বৈঠকে সতর্ক করেছিলেন নেতা।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার আগ্রাসন চালালে ইরানের জবাব হবে আগের চেয়ে ‘আরো ভয়াবহ ও ব্যাপক’। বিনা উসকানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগের হামলার সময় আগ্রাসীদের যে জবাব দেয়া হয়েছিল, এবার তার চেয়েও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।

লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ হচ্ছে

আকরামনিয়া বলেন, আগের যুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা হামলা ইসরাইলের দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে শুরু করে আঞ্চলিক দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এর পর থেকে বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি আরো জোরদার করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আরো বেশি স্থাপনা ও সম্পদ যুক্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, নতুন করে কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে নাগালের মধ্যে থাকা যেকোনো জায়গায় মার্কিন স্থাপনা, সামরিক সরঞ্জাম, সেনাসদস্য ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হতে পারে।

যুদ্ধ কত দিন চলবে, ঠিক করতে পারবেন না ট্রাম্প

ইরানের এই মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, নতুন যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের যুদ্ধের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে চলতে পারে। যুদ্ধের স্থায়িত্ব কিংবা কখন কী শর্তে এর অবসান হবে, তা এককভাবে ঠিক করার ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের থাকবে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আগের যুদ্ধের শুরুর সময়ের তুলনায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন অনেক বেশি প্রস্তুত। গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর থেকে অস্ত্রশস্ত্র আধুনিক করা, নতুন সরঞ্জাম যুক্ত করা এবং উন্নত প্রযুক্তি ও যুদ্ধকৌশল চালুর কাজ চলছে।

প্রতিরক্ষার পাশাপাশি আক্রমণেও জোর

আকরামনিয়া বলেন, ইরানের সামরিক নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। একসময় যে নীতি মূলত প্রতিরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন সেখানে আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেয়া হচ্ছে। নেতার নির্দেশনায় ‘বুদ্ধিদীপ্ত যুদ্ধপ্রস্তুতি’ এখন ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। অসম যুদ্ধের সক্ষমতা, নতুন পরিস্থিতিতে দ্রুত কৌশল উদ্ভাবন এবং উপযুক্ত যুদ্ধপদ্ধতি তৈরিতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও রাডার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামতের পাশাপাশি নতুন আক্রমণ ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও বাহিনীর কাঠামোয় যুক্ত করা হয়েছে।

একাধিক দিক থেকে হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি

আকরামনিয়া বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর (আইআরজিসি) মধ্যে সমন্বয় আরো জোরদার হয়েছে। একাধিক দিক থেকে সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় সামরিক পরিকল্পনাও তৈরি রাখা হয়েছে।

সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত ইসলামি বিপ্লববিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে ইরানের পশ্চিম সীমান্তে স্থলযুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট খোলার চেষ্টা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সহায়তায় সেনা মোতায়েন এবং আগাম সামরিক অভিযান চালিয়ে ইরান সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। ফলে গোষ্ঠীগুলো তাদের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারেনি।