
ক্রীড়া প্রতিবেদক
টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডটা ২৩ বছর ধরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলেই। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন উইকেটের জয়ে বিশ্ব রেকর্ডটা নিজের নামে লিখে নেয় উইন্ডিজ। এখন পর্যন্ত টেস্টে ৪০০-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি চারটি। সবশেষ ২০০৮ সালে চেন্নাইয়ে উইন্ডিজের দেয়া ৪১৪ রান তাড়া করে ছয় উইকেটে জেতে ভারত। টেস্ট ইতিহাসে ৪০০ রান তাড়া করে জয়ের অপর দুই রেকর্ড অনেক পুরনো। পোর্ট অব স্পেনে ৪০৪ রান তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৯৭৬ সালে জিতেছিল ভারত। এর আগে ১৯৪৮ সালে লিডসে সমান ৪০৪ রান তাড়া করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।
আবুধাবি টেস্টে জয়ের সমীকরণটা এখন দুই দলের কাছেই পরিষ্কার। আজ টেস্টের শেষ দিনে বাংলাদেশের চাই সাত উইকেট। আর জয়ের জন্য আফগানিস্তানের চাই ৩৪৭ রান। রেকর্ড ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় গতকাল তিন উইকেটে খুইয়ে ফেলা আফগানিস্তানের হয়ে ৩৫ ও ১৯ রান নিয়ে উইকেটে আছেন সেদিকুল্লাহ আতাল ও হাশমতউল্লাহ শহীদি।
এই অবস্থায় আফগানদের চেয়ে জয়ের সম্ভাবনায় বাংলাদেশই বেশ এগিয়ে। আফগানিস্তানের পিছিয়ে থাকা কিংবা বাংলাদেশের এগিয়ে থাকার অনেক কারণ আছে। এক, আফগানিস্তানকে জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হবে। টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। অথচ আফগানদের চতুর্থ ইনিংসে তুলতে হবে ৪৭৯! তাছাড়া সর্বোচ্চ ১৪৯ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড আফগানিস্তানের। দুই, টেস্টের শেষ দিনের পিচে ব্যাট করা আগের দিনগুলোর তুলনায় সাধারণত কঠিন হয়ে থাকে। পিচ ভেঙে গেলে তা থেকে সুবিধা পেতে পারেন স্পিনাররা। উইকেটে বল পড়ে স্কিড করতে পারে।
রেকর্ড লক্ষ্য তাড়া করতে এসে ২৮ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে ‘স্বাগতিক’ আফগানরা। যদিও আর কোনো উইকেট না হারিয়েই ৫১ রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় আফগানরা। চা বিরতির পরও অনেকটা সময় বাংলাদেশ বোলার-ফিল্ডারদের হতাশ করে উইকেটে খেলেছেন ওপেনার সেদিকুল্লাহ অটল ও অধিনায়ক রহমত শাহ। ৮২ রানের জুটি গড়ে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠারই আভাস দিচ্ছিলেন তারা। তবে রহমত শাহকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন ইবাদত হোসেন। আউট হওয়ার আগে ৫টি চার ও ১টি ছয়ে ১২৪ বলে ৫১ রান করেন আফগান অধিনায়ক। বল হাতে সবচেয়ে সফল ইবাদত। রহমত শাহ ছাড়াও তিনি ফিরিয়েছেন ওপেনার আবদুল মালিককেও। আর আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক হিরো হাসান মাহমুদ নিয়েছেন এক উইকেট।
আবুধাবিতে টেস্টের শেষ দিনে জয়ের আশাই করছে বাংলাদেশ। আফগানদের জন্য বড় লক্ষ্য দেয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছেন লিটন দাস। তার সেঞ্চুরির সুবাদেই দ্বিতীয় ইনিংসে সাত উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ১১৫ বলে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরির পর ব্যাট-হেলমেট উঁচিয়ে ধরে দর্শকদের অভিনন্দনের জবাব দেন লিটন। দল এবং নিজের প্রয়োজনের সময়েই এসেছে এই সেঞ্চুরি। গত অস্ট্রেলিয়া সফরে তিন ইনিংসে ৩ শূন্য এবং এশিয়াডের দুই ম্যাচে ০ ও ২ রানে আউট হয়ে ছিলেন একটা চাপের মধ্যে। এই সেঞ্চুরিতে সেই সেই চাপ উড়িয়ে দিলেন। যদিও সেঞ্চুরি ইনিংসটি খেলতে দুবার ‘জীবন’ পেয়েছেন লিটন। তার ১১৭ বলের ইনিংসটি ১৪টি চারে সাজানো।
আগের দিনের ২২৩/৬ স্কোর নিয়ে দিন শুরু করেন লিটন। আউট হওয়ার আগে যোগ করেন ৯৭ রান। লিটনের আউট হওয়ার পরপরই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। মিরাজ অপরাজিত থাকেন ৫২ রানে। ৯২ বলে ফিফটি ছোঁয়া মিরাজের ইনিংসটিতে আছে ৫টি চার। সপ্তম উইকেট জুটিতে লিটন-মিরাজ ২০১ বল খেলে যোগ করেন ১৪৯ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ ইনিংস : ৩৪৬ ও ৩৭২/৭ ডিক্লে. (আগের দিন ২২৩/৬) (লিটন ১০২, মিরাজ ৫২*; ইয়ামিন ২/৯৬, সালিম২/৬৯, জিয়া ২/৮৬, কাইস ১/৭০)
আফগানিস্তান ১ম ইনিংস : ২৪০
আফগানিস্তান ২য় ইনিংস : (লক্ষ্য ৪৭৯) ৫০ ওভারে ১৩২/৩ (মালিক ২. আতাল ৩৫*, শাহিদউল্লাহ ১৯, রেহমাত ৫১, শাহিদি ১৯*; হাসান ১/৩১, ইবাদত ২/৩২)
চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ ৩৪৭ রানে এগিয়ে ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








