প্রথম পেসার হিসেবে হাসানের হ্যাটট্রিক
প্রথম পেসার হিসেবে হাসানের হ্যাটট্রিক।

ক্রীড়া প্রতিবেদক
২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে পেশোয়ার টেস্টে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক কাপালি। এরপর ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই কীর্তি গড়েন সোহাগ গাজী। দু’জনই ছিলেন স্পিনার। দীর্ঘ ১৩ বছর পর বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে এই তালিকায় নাম লেখালেন হাসান মাহমুদ। তবে তার অর্জনের বিশেষত্ব, তিনিই প্রথম বাংলাদেশী পেসার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করলেন। সব দেশ মিলিয়ে এই বছর টেস্ট ক্রিকেটে এটিই প্রথম হ্যাটট্রিক। টেস্ট ইতিহাসে ৫০তম হ্যাটট্রিকও এটি।
একটি বল, একটি রিভিউ আর কয়েক সেকেন্ডের অপেক্ষা! তারপরই আবুধাবির মাঠে শুরু হলো উল্লাস। আম্পায়ারের চোখে যেটি ছিল নট আউট, প্রযুক্তির চোখে সেটিই হয়ে গেল আউট। আর তাতেই পূর্ণতা পেল হাসান মাহমুদের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক। শুধু হ্যাটট্রিক করেই থামেননি, আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে দিনটিকেও রাঙিয়েছেন।
আবুধাবিতে তৃতীয় দিনের সকালটা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য নতুন বল হাতে। আগের দিন ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলে বেশ ভালো অবস্থানে ছিল আফগানিস্তান। কিন্তু নতুন বলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করেন হাসান ও এবাদত হোসেন। দিনের তৃতীয় ওভারেই ইকরামকে বোল্ড করে প্রথম আঘাতটি হানেন এবাদত। এরপর দৃশ্যপটে হাসান।
আফগানিস্তানের ইনিংসের ৮৩তম ওভার। হাসানের তৃতীয় বলে ইসমত আলমের স্টাম্প ভেঙে যায়। ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে প্রথম ধাপ পার করেন। পরের বলেই কায়েস আহমেদের ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় স্লিপের দিকে। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন লিটন দাস। দুই বলে দুই উইকেট, এবার ইতিহাসের হাতছানি। ওভারের পঞ্চম বলটি করেন তিনি জিয়াউর রেহমানকে। বল গিয়ে লাগে ব্যাটসম্যানের প্যাডে। সাথে সাথে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জোরালো আবেদন। কিন্তু আম্পায়ার সাড়া দিলেন না। মুহূর্তের জন্য থমকে গেল বাংলাদেশের উদ্যাপন। তবে হাল ছাড়েননি অধিনায়ক শান্ত। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে নিলেন রিভিউ।
এরপর টেলিভিশন রিপ্লেতে ফুটে উঠে আসল চিত্র। বল ব্যাটে নয়, সরাসরি প্যাডে আঘাত করেছে এবং সেটি গিয়ে লাগত অফ স্টাম্পের ওপরের অংশে। বদলে গেল আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। জিয়াউর আউট, হাসানের হ্যাটট্রিক-সতীর্থদের ছুটে যাওয়া, হাসানের উচ্ছ্বাস-আবুধাবির মাঠে উন্মাদনা।
হাসানের জন্য দিনটি অবশ্য হ্যাটট্রিকেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে ২১ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৫ মেডেনসহ মাত্র ৫৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ১৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ ফাইফার। একই সাথে বাংলাদেশের দ্রুততম পেসার হিসেবে টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন তিনি।
হাবিবুল বাশার সুমন
হাসান ফাইফার পাওয়ায় বেশ খুশি বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। ‘এখানে ফাস্ট বোলারদের জন্য খুব কঠিন কন্ডিশন, অনেক গরম এবং উইকেটেও খুব বেশি কিছু নেই। অস্ট্রেলিয়ান উইকেটে বোলিং করাটা অনেক কমফোর্টেবল, কন্ডিশন ভালো থাকে, উইকেটেও হেল্প থাকে। আবুধাবির উইকেটে ৫ উইকেট পাওয়াটা অনেক বড় কিছু।’
নাজমুল হোসেন শান্তর প্রশংসা করে বাশার বলেন, ‘একজন ক্যাপ্টেনকে পুরো দলটার সবার মানসিকতা বুঝতে হয়, সবার মানসিকতা সমান থাকে না। আমি মনে করি শান্ত এই কাজটা খুব ভালোমতো করছে। সঠিক সময়ে রিভিউ নিয়েছে। আমাদের আরেকজন ক্যাপ্টেন আছে লিটন, তিনিও ভালো ক্যাপ্টেন্সি করছেন। যে কয়জন ক্যাপ্টেন আছেন তারা সবাই দলটাকে খুব ভালোমতো বোঝেন। যে কারণে কিছুটা ধারাবাহিক আমাদের পারফরম্যান্স।’

Advertisement