
ক্রীড়া প্রতিবেদক
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা সুখকর হয়নি। ব্যাটিংয়ে শুরুতেই ধস, বড় জুটি গড়তে ব্যর্থতা আর প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার মতো বোলিংয়ের অভাব- সবমিলিয়ে ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে ৭ উইকেটের বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দলকে। তবে এমন হতাশার পরও ভেঙে পড়তে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক। বরং ভুলগুলো শুধরে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি! আজ সকাল ৯.৫০ মিনিটে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামবে উভয় দল। এই ম্যাচ জিতে সমতায় ফিরতে চান জ্যোতি।
হারের হতাশা কাটিয়ে পরের ম্যাচে কিভাবে আরো ভালো করা যায়, সেটিই এখন অধিনায়কের প্রধান ভাবনা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ধৈর্য ধরে খেলা এবং চাপের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ওপর জোর দিয়ে জ্যোতি জানান, ‘ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে। খেলতে হবে ধৈর্য ধরে। পরের ম্যাচে কিভাবে এগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, সেই চিন্তা করছি।’
প্রথম ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৬৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ১৪৬ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় এখন বাকি দুই ম্যাচেই জিততে হবে বাংলাদেশকে। সেই কঠিন সমীকরণ মেলাতে হলে ব্যাটিং ও বোলিং- দুই বিভাগেই উন্নতি জরুরি বলে মনে করছেন অধিনায়ক।
বাংলাদেশের হারের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ পাওয়ার প্লেতে দ্রুত উইকেট হারানো। প্রথম ৪৭ বলের মধ্যেই তিনটি উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশের পক্ষে আর ইনিংসের ভিত শক্ত করা সম্ভব হয়নি। শুরুর ধাক্কা সামলে মাঝের ওভারগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশ বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি। অধিনায়ক নিজেও ৮৬ বলে ২৯ রান করে ফিরে যান। এই ব্যর্থতার কথাই তুলে ধরেছেন জ্যোতি। ‘নতুন বলে ব্যাটিং করতে আমাদের সতর্ক হতে হবে। পাওয়ার প্লেতে এত উইকেট হারানো যাবে না। জুটি গড়তে না পেরে পথ হারিয়ে ফেলেছি।’
বাংলাদেশের হয়ে অভিষেকেই হাবিবা ইসলাম পিংকি ফোবি লিচফিল্ড ও বেথ মুনিকে ফিরিয়ে সাময়িকভাবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। জ্যোতি এই পারফরম্যান্সকেই ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। ‘অনেক ইতিবাচক দিকও ছিল। হাবিবা পিংকি আক্রমণাত্মক ছিল। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলেছে। পরের ম্যাচেও এই ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রাখতে হবে।’
বাংলাদেশের সামনে এখন দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। সিরিজের তিনটি ওয়ানডেই হবে ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে। সিরিজে সমতা ফেরাতে হলে শুধু ইতিবাচক মানসিকতা নয়, ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা, উইকেট ধরে রাখা এবং বোলিংয়ে ধারাবাহিকতাও দেখাতে হবে জ্যোতিদের। প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে বাংলাদেশ কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা!
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








