
উত্তম গোলদার, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সম্প্রতি নতুন এক ভাইরাসজনিত ব্যাধি ‘হাত, পা ও মুখের রোগ’ বা ‘হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ’ (এইচএফএমডি)-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সংক্রামক এ রোগে আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিগত কয়েক দিন ধরে এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসছে। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপরে পাশাপাশি স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, মূলত এন্টেরোভাইরাস নামক এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে এই ব্যাধির সৃষ্টি হয়। এটি মূলত ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের বেশি আক্রমণ করে। তবে পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে তার মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্করাও এ রোগে সংক্রমিত হতে পারেন। সংক্রামক ভাইরাসটি প্রধানত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি, মুখের লালা, ত্বকের ফোস্কার রসে থাকা জীবাণু, সংক্রমিত মল কিংবা রোগীর ব্যবহার করা খেলনা ও আসবাবপত্রের মাধ্যমে দ্রুত এক দেহ থেকে অন্য দেহে ছড়ায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই বছরের শিশুসন্তানের চিকিৎসা নিতে আসা এক অভিভাবক জানান, কয়েক দিন আগে তার শিশুর হঠাৎ জ্বর আসে। এর পরপরই শিশুর গলায়, ঘাড়ে ও হাতের তালুতে ফুসকুড়ির মতো ছোট লাল দানা দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। গলায় অস্বস্তি ও মুখের ভেতরের যন্ত্রণাদায়ক ঘা বা ফোস্কার কারণে শিশুটি কান্নাকাটি করছে এবং স্বাভাবিক খাবার খেতে পারছে না।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডায়াবেটিস ও ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, বর্তমানে ডেঙ্গু, অ্যালার্জি ও স্বাভাবিক মৌসুমি জ্বরের পাশাপাশি এইচএফএমডি আক্রান্ত রোগীর চাপ লণীয়ভাবে বেড়েছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন শিশুকে এই ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বা প্রতিষেধক ভ্যাকসিন না থাকায় লণভিত্তিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। জ্বর ও ব্যথার উপশমে চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) বলেন, এ রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ শিশুদের সংস্পর্শ থেকে আলাদা রাখতে হবে এবং রোগীর ব্যবহার্য জামাকাপড়, খেলনা ও ঘরের আসবাবপত্র জীবাণুমুক্ত রাখা প্রয়োজন। শিশুরা যাতে অপরিষ্কার হাত মুখে না দেয়, সেদিকে অভিভাবকদের কড়া নজর রাখতে হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








