
রফিকুল হায়দার ফরহাদ
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের উঠতি গোলরক্ষক মেঘলা রানী রায়। ঠাকুরগাঁওয়ের এই মেয়ে এখন লাল-সবুজ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের অধিনায়ক। অবশ্য জাতীয় দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমার মতো তিনিও বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের সাথে সিনিয়র জাতীয় দলে খেলেছেন। তা সাবিনা-মাছুরাদের বিদ্রোহের সময়। গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলেছিলেন মেঘলা। সর্বশেষ জর্দান সফরে জর্দানের বিপক্ষে দুই প্রীতিম্যাচে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ দল এখন উজবেকিস্তানে। তার নেতৃত্বে গত পরশু বাংলাদেশ ২-১ এ হারিয়েছে উজবেকিস্তানকে। সেখানে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল বাছাই পর্বেও তিনি নারী দলের নেতৃত্বে। অবশ্য মেঘলার ফুটবল ক্যারিয়ারটা গোলরক্ষক হিসেবে শুরু হয়নি। প্রথম দিকে তিনি ছিলেন ফরোয়ার্ড। কখনো স্ট্রাইকার কখনো উইংগার হিসেবে খেলতেন। এরপর গোলরক্ষক পজিশনে খেলেই এখন পোস্টের নিচে আগামীর ভরসা। তবে এখনো মাঝে মধ্যে তার আফসোস হয় ফরোয়ার্ড লাইনে খেলতে না পারার জন্য। জানান, যখন ফরোয়ার্ডরা গোল মিস করে, ভুল করে তখন মনে হয় আমি ফরোয়ার্ড লাইনে খেললে এই ভুলগুলো হয়তো হতো না। গোলও আসত।
ঠাকুরগাঁয়ের রানী শংকৈলের মেয়ে মেঘলা। তবে ফুটবল শিখেছেন রংপুরের পীরগঞ্জের জনগাঁও ফুটবল অ্যাকাডেমির হয়ে। ফুটবলে তার হাতে খড়ি ২০১৮ সালে নিজ এলাকার গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক স্কুল থেকে। শীত ও গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়ার অংশ হিসেবে স্কুল পর্যায়ে যে খেলা হতো সেখানেই নিজ স্কুল থেকে ফুটবল দলে প্রতিনিধিত্ব করেন। তখন ছিলেন স্ট্রাইকার ও লেফট উইং। অবশ্য এই পজিশনে তেমন খেলা হয়নি। মেঘলা জানান, মাঝে ফুটবল খেলা বন্ধ ছিল। এরপর ফের খেলা শুরু হলে ম্যাচে গোল কিপিং করার মতো কাউকেই খুঁজে পাননি স্কুলশিক্ষক। স্কুলশিক্ষক তখন জানতে চান কে গোলরক্ষক পজিশনে খেলবে। কিন্তু কেউই হাত তুলছিল না। শেষ পর্যন্ত আমি হাত তুলি। তখন থেকে সেই যে গোলরক্ষক পজিশনে খেলা তা এখনো অব্যাহত।’ তার মতে, ‘এখনো আমার ফরোয়ার্ড লাইনে খেলতে না পারার কষ্টটা লাগে। যখন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা গোল করতে পারেন না তখন আমার কাছে মনে হয় আমি থাকলে হয়তো ভুলগুলো হতো না। গোলও আসত।’
২০২১ সালে জনগাঁও ফুটবল অ্যাকাডেমি চালু হলেও মেঘলা সেই অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হয়েছেন ২০২২ সালে। ২০২৩ সালে দিনাজপুর বিকেএসপিতে ট্রায়াল দিয়ে টিকে যান। ২০২৪ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৬ নারী সাফে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন মেঘলা। তবে গোলরক্ষক ইয়ারজানের জন্য খেলা হয়নি। গত বছর ভুটানে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ সাফে খেলেছেন মেঘলা। সে আসরে খেলা হয়েছে তার। হয়েছেন সেরা গোলরক্ষক। তাই সেই সাফই মেঘলার কাছে স্মরণীয়। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছিল আর গত বছরই জর্দানের মাঠে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ আসরে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে সেভগুলো ভুলতে পারছেন না তিনি। জানান, ‘ওই ম্যাচে বাংলাদেশ ০-৫ গোলে হারলেও আমি ভালো সেভ করেছিলাম কয়েকটি, যা এখনো মনে পড়ে।’
বিকেএসপির গণ্ডি পেরিয়ে মেঘলা এখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি নিয়েছেন। সেনাবাহিনীতে গোলরক্ষক হিসেবে আছেন জাতীয় দলের মিলি আক্তার। ফুটসালে ভালো করা বর্ষাও আছেন। মেঘলা জানান, ‘এদের সাথে ফাইট করেই আমি সেনাবাহিনী দলের একাদশে চান্স পেতে চাই। সে সাথে আবার সিনিয়র জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।’ বিদেশে ব্রাজিলের অ্যালিসন বেকার ও বাংলাদেশে রুপনা চাকমা তার প্রিয় গোলরক্ষক। লিগে প্রথম বছর উত্তরা এফসির হয়ে খেলেছেন। গত লিগে ছিলেন সেনাবাহিনী দলে।
কৃষক বাবা ও চা দোকানি মায়ের সন্তান এই মেঘলা। তার আরো এক বোন ও এক ভাই আছে। তারা অবশ্য লেখাপড়া করছে। ফুটবলে আসেনি। বাবার সাথে কৃষিকাজ করেছেন মেঘলা। মাছ ধরেছেন। জানান, ‘একবার বিলে মাছ ধরার সময় একটি সাপও ধরেছিলাম। জানতাম এই সাফ কামড়ালে কিছু হবে না। তাই ধরে ছিলাম।’
গত বছর জর্দানের মাঠে বাংলাদেশ কোনো ম্যাচে জিততে না পেরে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বদলে গ্রুপে তৃতীয় হয়ে দেশে ফিরেছিল। এবার মেঘলার হাতে আর্ম ব্র্যান্ড। জানান, এবার আমাদের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। জর্দান গিয়ে দুই ম্যাচ জিতে এসেছি। আশা করি এবার উজবেকিস্তানের মাঠে সাফল্য পাবো।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








