
ক্রীড়া প্রতিবেদক
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সে হিসেবে উপলক্ষটা ছিল অনেক বড়। কিন্তু সফরে প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিং-বোলিংয়ে ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সে কিছুই করতে পারল না নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। স্বাগতিকদের কাছে সাত উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে টাইগ্রেসরা। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ছোট লক্ষ্যকে তাড়া করতে নেমে ফোবি লিচফিল্ডের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে মাত্র ২৫.৪ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান তুলে ফেলে অস্ট্রেলিয়া নারী দল। এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
ব্রিসবেনের অ্যালান বর্ডার ফিল্ডে গতকাল টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই স্বাগতিক বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে চাপে পড়ে টাইগ্রেস ব্যাটাররা। দলীয় রানের খাতা না খুলতেই সাজঘরের পথ ধনের ফারজানা হক। অস্ট্রেলিয়ার পেসার মেগান শাট প্রথম বলেই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসে চাপ সৃষ্টি করেন। পরে নেন আরো একটি উইকেট হারায়। ১১ রান তুলতেই ব্যক্তিগত ৪ রান নিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন শারমিন সুলতানা। ২৫ রান আসে শারমিন আক্তারের ব্যাটে। অধিনায়ক নিগার সুলতানা করেন ২৯ রান। স্বর্ণা আক্তার করেন ২১ রান। দলীয় সর্বোচ্চ ৪৫ রান আসে রিতু মনির ব্যাটে। ৬৩ বলে ইনিংসটি সাজান ৬টি চারের সাহায্যে। শেষের দিকে ছিল নাহিদা আক্তারের অপরাজিত ১৯ রান। ধারাবাহিক বিরতিতে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত ৪৯.৪ ওভারেই অলআউট হয় টাইগ্রেসরা। ফলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬৭ রান। ৩০ রানে চারটি উইকেট নেন অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড।
১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়া। দলের ওপেনার লিচফিল্ড দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন। ৫৭ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তার সাথে অলরাউন্ডার সাদারল্যান্ড ২৬ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। সাদারল্যান্ডের সাথে ২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন এলিস পেরি। বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্সে চারটি উইকেট ও অপরাজিত ২৬ রানের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন সাদারল্যান্ড। এ ছাড়া মেগান শাট নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হারলেও সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। আগামীকাল একই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। এরপর ১৪ অক্টোবর হবে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। সিরিজে সমতা ফেরাতে হলে পরের ম্যাচে ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা এবং বোলিংয়ে কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে নিগার সুলতানাদের।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








