
ক্রীড়া প্রতিবেদক
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনে ব্যাট হাতে ভালো শুরুর পর শেষ বিকেলে ধস নেমেছে বাংলাদেশ শিবিরে। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। টস জিতে অধিনায়ক ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মূলত শুষ্ক উইকেটের সুবিধা কাজে লাগানোর আশায়। তার ধারণা, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে উইকেট থেকে স্পিনাররা সহায়তা পেতে পারেন এবং ব্যাটিং কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রথম ইনিংসে যতটা সম্ভব বড় সংগ্রহ গড়ে আফগানিস্তানকে চাপে রাখাই লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের।
ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল তা দিনের শুরুতে প্রমাণও করেছেন দুই ওপেনার। তবে দারুণ সূচনা পেলেও পরের দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় দল। দিন শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। এই রান তুলতে বড় ভূমিকা ছিল দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসানের। ৬৭ রান আসে সাদমানের ব্যাটে আর ৮৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকালের শুরুটা আশাব্যঞ্জক ছিল বাংলাদেশের। ইনিংসের শুরু থেকেই আফগান বোলারদের রীতিমতো শাসন করেন তানজিদ হাসান তামিম ও সাদমান ইসলাম। বিশেষ করে তানজিদের ব্যাটিং ছিল দৃষ্টিনন্দন। দ্রুত রান তুলে প্রতিপক্ষের বোলারদের চাপে ফেলে দেন তিনি। মাত্র ৭১ বলে ৮৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এই বাঁ হাতি ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও চারটি ছক্কা।
অন্য প্রান্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন সাদমান ইসলামও। দুই ওপেনারের ব্যাটে প্রথম উইকেট জুটিতে আসে ১২৪ রান। সকালের সেশনে বাংলাদেশের রান তোলার গতি ছিল বেশ চড়া। এক পর্যায়ে ২৬ ওভারে ১৩৪ রান তুলে ফেলে দল। তবে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি তানজিদের। ইসমত আলমের বলে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলিখিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ে ভাঙে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। তানজিদের বিদায়ের পর কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে আফগানিস্তান। ব্যাটারদের ওপর চাপ বাড়াতে লাইন ও লেংথ ঠিক রেখে বল করতে থাকেন আফগান বোলাররা।
সাদমানের সাথে এবার জুটি গড়েন মুমিনুল হক। বাংলাদেশের রান এগিয়ে যেতে থাকেন দু’জনে। সাদমান ছিলেন ধৈর্যশীল। মোহাম্মদ সেলিমের বলে আউট হওয়ার আগে ১১১ বল মোকাবেলায় সাতটি চারের সাহায্যে ৬৭ রান করেন তিনি। জিয়া-উর-রহমান আকবরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ১৮৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর মুমিনুলকে সঙ্গ দিতে উইকেটে আসেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে দলীয় ২২১ রানে ফিরে যান মুমিনুল। ৭০ বলে ৩৯ রান করেন চারটি চারের সাহায্যে। ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই বাঁ হাতি ব্যাটার। মুমিনুলের বিদায়ের পর সাত বল মোকাবেলা করে কোনো রান না করেই ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের বলে বোল্ড হন মুশফিকুর রহীম। অল্পসময়ের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
অধিনায়ক শান্তও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৪২ বলে ২৯ রান করে কায়েস আহমদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। দুই উইকেটে ২২১ থেকে এক পর্যায়ে ২২৫ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে যে দলটি বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল, অল্পসময়ের তিন উইকেট হারিয়ে ইনিংসে তখন কিছুটা অনিশ্চয়তায় পড়ে টাইগাররা। তবে সেই ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। এই জুটিতে আবার রান বাড়তে থাকে বাংলাদেশের। তবে ২৪ রান করার পর ইসমত আলমের করা বাইরের বল উইকেটে টেনে বোল্ড হন মিরাজ। অন্য প্রান্তে নাইম হাসানকে সাথে নিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লিটন। কিন্তু অর্থশত পূর্ণ হলেও ইনিংস আর সামনে নিয়ে যেতে পারেননি এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। মোহাম্মদ সেলিমের বলে ইয়ামিন আহমদজাইয়ের হাতে ধরা পরে ৫৩ রানে ফেরেন তিনি। ৮৯ বলের ইনিংসে ছিল চারটি চার। এরপর হাসান মাহমুদের ব্যাট থেকে আসে দুই রান। দিন শেষে ১১ রানে নাঈম হাসান ও চার রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে ছিলেন তাইজুল ইসলাম। তিনটি উইকেট নেন মোহাম্মদ সেলিম। দু’টি উইকেট ইয়ামিন আহমদজাইয়ের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস : বাংলাদেশ
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৩১৭/৮ (৮৪ ওভার) তানজিদ ৮৩, সাদমান ৬৭, মুমিনুল ৩৯, মুশফিক ০, শান্ত ২৯, মিরাজ ২৪, লিটন ৫৩, হাসান মাহমুদ ২, নাঈম ১১*, তাইজুল ৪*; সেলিম ৩/৭০, আহমদজাই ২/৬২, কাইস আহমেদ ১/৬০।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








