
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন প্রচার এবং শান্তি প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মাননা দেয়া হয়েছে।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শুক্রবার এই পুরস্কার ঘোষণা করে। নরওয়ের ওসলোতে এক সংবাদ সম্মেলনে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো অপরাধ বিচারের আওতায় আনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন নাভি পিল্লাই। নোবেল কমিটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পিল্লাইয়ের অগ্রণী ভূমিকার পাশাপাশি তার বিচারিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিগত সততা ও সাহসকে গুরুত্ব দিয়েছে তারা।
নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্ম নেন নাভি পিল্লাই। আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা ব্যক্তিদের পক্ষে আইনি লড়াই শুরু করেন। ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইনি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। নাভি পিল্লাই প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে আইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৮৮ সালে সেখান থেকে আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক নিযুক্ত হন পিল্লাই। তিনিই প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী যিনি হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন। চার বছর পর তিনি রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটিআর) বিচারক ও সভাপতি হন। সেখানে যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও ঘৃণার ছড়ানোর মতো কর্মকাণ্ড কিভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে বিচারের আওতায় আসতে পারে তা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন তিনি।
পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার (ওএইচসিএইচআর) ছিলেন।
ইসরাইলে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসঙ্ঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতি হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) অস্থায়ী বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম মনোনীত হয়েছিল। তাদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিশেষজ্ঞদের মতে, নোবেল কমিটি পুরস্কারের জন্য সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্বের প্রসার এবং এসব লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীরব ও ধারাবাহিক অবদানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।
গত বছর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবদানের জন্য দেশটির বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
এ বছর নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান (বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১৪ কোটি ৭৫ লাখ থেকে ১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান (সোর্স : জেমিনি)। একক ব্যক্তি, একাধিক পুরস্কারজয়ী বা কোনো প্রতিষ্ঠান, সবার ক্ষেত্রেই অর্থের পরিমাণ একই।
২০২৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারের ১২৫ বছর পূর্তি হল। ১৯০১ সালে এ পুরস্কার চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১১২ জন ব্যক্তি ও ২৮টি প্রতিষ্ঠানকে এ সম্মাননা দেয়া হয়েছে। রেড ক্রস তিনবার এবং জাতিসঙ্ঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা দু’বার নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








