ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিবাসন কমানোর পরিকল্পনা অস্ট্রেলিয়ার

 নয়া দিগন্ত ডেস্ক

Advertisement

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন কমাতে বড় ধরনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির রক্ষণশীল বিরোধী দল লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশন। এ পরিকল্পনা কার্যকর হলে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অভিবাসন সবচেয়ে বেশি কমবে বলে দাবি দলটির। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর। তিনি বলেন, তাদের প্রস্তাবে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
অভিবাসন কমানো হলে সড়ক, স্কুল, অবকাঠামো ও আবাসনের ওপর চাপ কমবে। এতে এসব খাতের চাহিদা সামাল দেয়া সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।  এ লক্ষ্যে আগামী চার বছরে অস্থায়ী ভিসার সংখ্যা ছয় লাখ ৫০ হাজার কমানোর পরিকল্পনা করেছে লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশন। প্রথম দুই বছর বছরে নিট অভিবাসীর সংখ্যা এক লাখে নামিয়ে আনার পাশাপাশি চতুর্থ বছরে এ সংখ্যা এক লাখ ৬০ হাজার রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দলটি।
পাশাপাশি মানবিক ভিসার সংখ্যা অর্ধেক কমিয়ে বছরে ১০ হাজারে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে জোটটি। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি দুই লাখ ৪০ হাজারে সীমিত রাখার পাশাপাশি পড়াশোনা শেষে কাজ ও পড়াশোনার সুযোগ দেয়া অস্থায়ী গ্র্যাজুয়েট ভিসা কর্মসূচি বাতিলের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
তবে অভিবাসন কমানোর পাশাপাশি দক্ষ কর্মীদের  জন্য অস্থায়ী ভিসার সংখ্যা এক লাখ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিরোধী জোট।
একই সাথে নির্মাণ খাতে কর্মীদের ভিসার আবেদন জমে থাকা জট কাটানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। এতে আবাসন ও অবকাঠামোর ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে দলটি।
বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সরকার দক্ষ কর্মী নেয়ার বদলে ব্যাপক হারে অভিবাসন বাড়িয়েছে। তাদের পরিকল্পনার মাধ্যমে এ নীতিতে পরিবর্তন আনা হবে বলে জানান তিনি।
এ দিকে অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও আবাসন সঙ্কটের কারণে অভিবাসন কমানোর দাবি জোরালো হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অভিবাসনবিরোধী কট্টর ডানপন্থি দল ওয়ান নেশনও চাপ বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন জনমত জরিপে দলটি লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশনের চেয়ে এগিয়ে গেছে। ওয়ান নেশন তিন বছরে অস্থায়ী অভিবাসন সাত লাখ ৫০ হাজার কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 
অন্য দিকে বিরোধী জোটের প্রস্তাবের তুলনায় কম কঠোর অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন লেবার সরকার। গত মাসে দলটি ২০২৮ সালের মধ্যে বছরে নিট অভিবাসীর সংখ্যা দুই লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। করোনার কারণে দুই বছরের বেশি সময় আন্তর্জাতিক যাতায়াত বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া আবার বিদেশীদের জন্য সীমান্ত খুলে দেয়। এরপর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, অস্থায়ী কর্মী ও ভ্রমণকারীদের আগমন বাড়তে থাকায় দেশটিতে অভিবাসীর সংখ্যাও বেড়ে যায়। তবে গত দুই বছরে এ সংখ্যা কমেছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া বছরে অস্ট্রেলিয়ায় নিট বিদেশী অভিবাসীর সংখ্যা ছিল তিন লাখ ছয় হাজার।