আশুলিয়ায় পরীক্ষা ছাড়াই জবাই হচ্ছে পশু, গোশতের নামে কী খাচ্ছে মানুষ

 তুহিন আহামেদ আশুলিয়া (ঢাকা)
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বিভিন্ন বাজারে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই চলছে জবাই ও গোশত বিক্রি। নির্ধারিত কসাইখানা না থাকায় খোলা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জবাই করা হচ্ছে পশু। ফলে এসব পশু সুস্থ কি না, তা না জেনেই গোশত কিনে নিয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ। সরকারি তদারকির অভাব, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল সঙ্কটে জনস্বাস্থ্যঝুঁঁকি বাড়লেও কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ পরিবারের খাবারের জন্য নিয়মিত গরু, মহিষ ও খাসির গোশত কিনেন; কিন্তু এসব গোশতের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
সরেজমিন আশুলিয়ার জিরানী, ইকরা, বলিভদ্র, বাইপাইল ও জামগড়াসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্থানে পশু জবাইয়ের নির্দিষ্ট স্থান নেই। গোশতের দোকানের সামনে কিংবা খোলা ও অপরিচ্ছন্ন জায়গায় পশু জবাই এবং গোশত কাটাকাটি করা হচ্ছে। পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অনুমোদিত সিল দেয়ার নিয়ম থাকলেও তা অনুসরণের দৃশ্যত কোনো বালাই নেই। আশুলিয়ার পাঁচটি ইউনিয়নেও পশু জবাইয়ের জন্য নির্ধারিত অবকাঠামোর অভাব রয়েছে বলে জানা যায়। এ অবস্থায় রোগাক্রান্ত পশুর গোশত ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
সাভার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো: সেলিম জাহান বলেন, সাভারের প্রায় ২০ লাখ মানুষের বিপরীতে সরকারি জনবল কাঠামোয় মাত্র একজন ভেটেরিনারি সার্জন রয়েছেন। প্রতিদিন জবাই হওয়া বিপুলসংখ্যক পশু এককভাবে পরীক্ষা করে সনদ দেয়া অত্যন্ত কঠিন। এ সমস্যা সমাধানে আধুনিক কসাইখানা, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ জরুরি।

Advertisement