শ্রমিক থেকে বিসিএস ক্যাডার আমিনুল
শ্রমিক থেকে বিসিএস ক্যাডার আমিনুল।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ
শৈশবে মা-বাবার বিচ্ছেদ, অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় বাবাকে হারানো, অভাবের সংসার- এসব বাধা পেরিয়ে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার আমিনুল হক। পড়াশোনার খরচ জোগাতে কখনো ইট ভেঙেছেন, কখনো কৃষিকাজ করেছেন, আবার কখনো টিউশনি করেছেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তার এ অর্জন এখন এলাকার মানুষের কাছে এক প্রেরণা।
ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের কান্দানিয়া গ্রামের আমিনুলের বাবা ওয়াজউদ্দিন মিয়া ছিলেন কৃষক। তার বয়স যখন মাত্র সাত মাস, তখন মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর চাচা আবদুল খালেক ও চাচী মিনারা খাতুন তাকে নিজেদের সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। ২০১২ সালে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় বাবাকেও হারান তিনি।
ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় ইট ভাঙার কাজ করেছেন আমিনুল। নবম শ্রেণী থেকে শুরু করেন টিউশনি। পাশাপাশি কৃষিকাজ করে নিজের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। বন্ধুদের খেলাধুলার সময় তাকে কাজ করতে হলেও শিক্ষা থেকে তিনি পিছিয়ে পড়েননি কখনো।
২০১৫ সালে কান্দানিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে আছিম শাহাবুদ্দিন ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ও টিউশনি করতেন। এ সময় সাঁকো-প্রথম আলো ট্রাস্টের অদম্য মেধাবী বৃত্তি তার পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে সহায়তা করে।
২০২১ সালের মার্চ থেকে বিসিএসের প্রস্তুতিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেন আমিনুল। দীর্ঘ দিন কোনো কোচিংয়ে নির্ভর না করে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সহায়তায় প্রস্তুতি নেন। একের পর এক বাধা পেরিয়ে পাঁচটি বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। অবশেষে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে। আগামী ১২ অক্টোবর তার চাকরিতে যোগদানের কথা রয়েছে।
আমিনুলের এ সাফল্যে চাচা-চাচী ও এলাকাবাসীর অবদান রয়েছে। আর্থিক সঙ্কটে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে স্থানীয় অনেকে তাকে অর্থ, বই-খাতা ও পোশাক দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। চাচা ও চাচী তাকে কখনো পর মনে করেননি।
তবে সাফল্যের এই মুহূর্তে নেই তার বাবা ও দাদী মোছা: ওমর জান। দাদী ২০২১ সালে মারা যাওয়ায় আমিনুলের এ অর্জন দেখে যেতে পারেননি। চাকরির খবর পাওয়ার পর বাবা ও দাদীর কবর জিয়ারত করেন আমিনুল।
আমিনুল মনে করেন, আর্থিক সঙ্কট ও প্রতিকূলতা স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হলেও অদম্য চেষ্টা এবং মানুষের সহযোগিতায় তা অতিক্রম করা যায়।

Advertisement