
রয়টার্স
বেইজিংয়ের তীব্র আপত্তি ও কূটনৈতিক বাধার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাইওয়ানের জাতীয় পতাকা প্রদর্শন প্রায় নিষিদ্ধ। তবে সেই নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে তাইপে শহরের আকাশে হেলিকপ্টারে ঝুলিয়ে এক বিশালাকার জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়েছে। প্যারাসুটের বিশেষ হালকা ও অত্যন্ত টেকসই কাপড়ে তৈরি ১২ মিটার দীর্ঘ এবং ১৮ মিটার প্রশস্ত (৪০ ফুট বাই ৬০ ফুট) এই পতাকাটি একটি ভারী কেবলের সাহায্যে উড্ডয়নরত হেলিকপ্টারের তলদেশে ভারসাম্য বজায় রেখে ঝুলিয়ে দেয়া হয়।
চীন থেকে ক্রমাগত রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে ২০১৯ সাল থেকে এই উদ্যোগ চালু করা হয়। প্রতি বছর ১০ অক্টোবর জাতীয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী জোড়া রোটরবিশিষ্ট মার্কিন চিনুক সিএইচ-৪৭এসডি হেলিকপ্টারের সাহায্যে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের ওপর দিয়ে এই বিশাল পতাকাটি উড়িয়ে নিয়ে যায় এবং একই সময়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। আজ শনিবার সকালে মূল উদযাপন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের। যেখানে সরকারের নীতিগত অবস্থান প্রকাশের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টি তিনি তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসা চীন আন্তর্জাতিক সংস্থায় তাইপের যেকোনো স্বতন্ত্র উপস্থিতি ঠেকাতে তৎপর। বিশ্ব ক্রীড়ামঞ্চেও তাইওয়ান নিজেদের পতাকা ব্যবহার করতে পারে না; ‘চাইনিজ তাইপে’ নামে বিশেষ এক প্রতীক নিয়ে অলিম্পিকের মতো আয়োজনে তাদের অংশ নিতে হয়। মূল ভূখণ্ডের বেইজিং কিংবা দ্বীপরাষ্ট্রের তাইপে- কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে পরস্পরকে স্বীকৃতি দেয় না।
এই আয়োজনের বিষয়ে বেইজিংয়ের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গত বছরের জাতীয় দিবসে প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ভাষণের পর তাকে ‘সমস্যা সৃষ্টিকারী ও যুদ্ধের উস্কানিদাতা’ হিসেবে অভিহিত করেছিল চীনের গণমাধ্যম। চলতি সপ্তাহে তাইপের সংশান বিমানবন্দরে উড্ডয়ন মহড়া শেষে ৪০ বছর বয়সী হেলিকপ্টার পাইলট লিন চ্যাং-চেং বলেন, আকাশে উড্ডীয়মান এই বিশালাকার পতাকাটি আসলে জাতীয় সার্বভৌমত্বের শক্তিশালী প্রতীক। আন্তর্জাতিক দমন-পীড়ন ও বাধার মুখে এই দৃশ্য তাদের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন এক অনুভূতির সৃষ্টি করে। ১৯১১ সালের ঐতিহাসিক বিপ্লবকে স্মরণ করে প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করে তাইওয়ান। সেই বিপ্লবের মাধ্যমেই চীনের সর্বশেষ রাজবংশের পতন ঘটে ‘রিপাবলিক অব চায়না’ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্টদের কাছে গৃহযুদ্ধে পরাজিত হয়ে মূল ভূখণ্ড ছেড়ে সরকারের অনুসারীরা তাইওয়ানে আশ্রয় নেয় এবং সেখানে শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলে। কাগজে-কলমে ‘রিপাবলিক অব চায়না’ এখনো তাইওয়ানের দাফতরিক নাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








