
আহমেদ ইফতেখার
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন আইফোন ডুয়ো প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। অ্যাপলের দাবি, এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পাতলা আইফোন। আইফোন ডুয়ো দেখতে অনেকটা পাসপোর্টের মতো, প্রান্তগুলো গোলাকার। খোলা অবস্থায় আইফোন ডুয়োতে রয়েছে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি ভেতরের পর্দা। ভাঁজ করা অবস্থায় এর বাইরের পর্দার আকার ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি, যা আইফোন ১৮ প্রোর পর্দার প্রায় ৯০ শতাংশ জায়গা ব্যবহার করে।
পকেটে রাখা যায় এমন একটি ডিভাইসে আইপ্যাডের মতো অভিজ্ঞতা দিতেই আইফোন ডুয়ো তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য এতে বিশেষভাবে তৈরি হিঞ্জ, একই অনুপাতের দু’টি পর্দা এবং নতুন টাইটানিয়ামের বডি ব্যবহার করা হয়েছে। দুই পর্দার আকৃতির অনুপাত একই রাখা হয়েছে। ফলে ফোন খোলা বা বন্ধ করা হলেও পর্দায় থাকা কনটেন্টের আকারের সামঞ্জস্য বজায় থাকবে। পর্দায় ন্যানো টেক্সচার ফিনিশ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আলোর প্রতিফলন কমানোর পাশাপাশি ভাঁজের দাগও তুলনামূলকভাবে কম দৃশ্যমান করবে। ভাঁজ করা অবস্থায় ফোনটি প্রায় একটি পাসপোর্টের আকারের। এতে গোলাকার কোণ ও একটানা ফ্রেম ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যাপলের মতে, বাস্তবে ফোনটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়।
ভাঁজযোগ্য নকশার কারণে ফোনটির ক্যামেরায়ও নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘স্মার্ট টেক’ নামের একটি সুবিধা। ফোনে থাকা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় শনাক্ত করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি তুলতে পারবে।
আইফোন ডুয়োতে ‘স্পিøট ভিউ’ নামে নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে আইফোনে প্রথমবারের মতো একই সময়ে পাশাপাশি দু’টি অ্যাপ চালানো যাবে। আইফোন ডুয়োতে রয়েছে ‘এ২০ প্রো চিপ’। ২ ন্যানোমিটারের এই প্রসেসরে রয়েছে ৬ কোরের সিপিইউ, ৭ কোরের জিপিইউ এবং দু’টি ১৬ কোরের নিউরাল ইঞ্জিন। অ্যাপলের দাবি, বিশেষভাবে তৈরি ভ্যাপার-চেম্বার কুলিং ব্যবস্থার কারণে আইফোন ডুয়ো দীর্ঘ সময় ধরে আইফোন ১৭ প্রোর তুলনায় সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ বেশি গতিতে কাজ করতে পারবে।
এতে অ্যাপলের তৈরি নতুন সি-২ সেলুলার মডেম চিপও ব্যবহার করা হয়েছে। ওয়্যারলেস ডেটা সংযোগের জন্য কোয়ালকমের চিপের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই মডেম তৈরি করেছে অ্যাপল।
ফোল্ডেবল নকশার কারণে আইওএস ২৭-এ আইফোন ডুয়োতে নতুন কিছুু মাল্টিটাস্কিং সুবিধাও থাকছে। ‘স্পিøট ভিউ’ ব্যবহার করে পাশাপাশি দু’টি অ্যাপ চালানো যাবে। একই অ্যাপের দু’টি উইন্ডোও একসাথে খোলা যাবে। নিয়মিত ব্যবহৃত দু’টি অ্যাপকে জোড়া হিসেবে সংরক্ষণ করা যাবে। পাশাপাশি অন্য একটি অ্যাপ চালু রেখেই এআই সিরির সাথে কথা বলা যাবে। ফোনটিতে আছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন মেইন ক্যামেরা। এতে ২-এক্স অপটিক্যাল-মানের টেলিফটো সুবিধা এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরাও রয়েছে। পেছনের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার সময় বাইরের স্ক্রিনে ছবির প্রিভিউ দেখা যাবে।
‘ডুয়ো প্রিভিউ’ সুবিধার মাধ্যমে ক্যামেরার সামনে থাকা ব্যক্তিরাও ছবিতে নিজেদের অবস্থান সরাসরি দেখতে পারবেন। ফোনটিতে ডলবি ভিশনে সর্বোচ্চ ১২০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ডে ফোরকে ভিডিও ধারণ করা যাবে।
আইফোন ডুয়ো পাওয়া যাবে ‘স্টার হোয়াইট’ ও ‘নাইট স্কাই’ রঙে। ফোনটির দাম শুরু এক হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। ১৬ অক্টোবর থেকে প্রি-অর্ডার নেয়া হবে এবং ২৩ অক্টোবর থেকে বাজারে পাওয়া যাবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








